চাইনিজ কুড়ালের আ\ঘাতে গুরুতর আহত; মামলা রেকর্ডে ওসির গড়িমসির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

চাইনিজ কুড়ালের আ’ঘাতে গুরুতর আহত; মামলা রেকর্ডে ওসির গড়িমসির অভিযোগ
পঞ্চগড়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মামলায় টালবাহানা—অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কেচেড়া পাড়া এলাকায় প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল ও ছোঁড়া দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে আরিফ হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন একই এলাকার মোস্তফা জামাল (৫৫)। তবে এজাহার দেওয়ার পরও সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ হিল জামান মামলা রেকর্ডে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে আরিফ হোসেন ও তার ছোট ভাই রাকিবসহ পরিবারের কয়েকজন মোস্তফা জামালের উপর হামলা চালায়। চাইনিজ কুড়ালের কোপে তার বাম পায়ের রগ কেটে যায় এবং কোমরের ওপর গভীর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
এর আগে শনিবার (১৫ নভেম্বর) ভোরে পুলিশ শাহিনুর নামে মোস্তফার ছেলেকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে যায় এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের নামে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই লকআপে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আদালতে সোপর্দের পর তিনি জামিনে ছাড়া পান।
হামলার ঘটনায় শাহিনুর বাদী হয়ে রবিবার রাতে ৬ জনকে আসামি করে এজাহার দেন। তবে পরিবারের দাবি—এজাহার জমা নিলেও পুলিশ নানা অজুহাতে মামলা রেকর্ড করেনি। এমনকি এজাহার থেকে আসামির নাম বাদ না দিলে মামলা নেবে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয় ভুক্তভোগী পরিবার।
অন্যদিকে আরিফদের পরিবার দাবি করেছে—শাহিনুরের পরিবার তাদের পথরোধ করে গালিগালাজ ও অপমান করেছে। এতে আব্দুল কাদের (আরিফের বাবা) মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ অভিযোগে তারা থানায় এজাহার দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ হিল জামান বলেন, “এজাহারে বাদীর এনআইডি নম্বর ভুল ছিল। আমরা সংশোধনের জন্য বলেছি। সংশোধন করে দিলেই মামলা নেওয়া হবে।”
তবে এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বাদী শাহিনুর জানান, “এনআইডি নম্বর ভুল ছিল না। এজাহারে স্বাক্ষর না করার বিষয়টিও মিথ্যা। স্বাক্ষর না থাকলে ডিউটি অফিসার এজাহার নিতেনই না।”
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “বাদী এজাহারে স্বাক্ষর না করায় মামলা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে থানায় আসতে বললে মামলা নেওয়া হবে।”
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, “যদি কোনো কগনাইজেবল অপরাধ ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগী অবশ্যই সহযোগিতা পাবে। এখানে অন্য কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই।”










