ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় রেললাইন ভেঙে ২ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা গোদাগাড়ীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হকের দাফন গোমস্তাপুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা? নাটোরে গৃহবধূ মীম হ/ত্যা; রাজুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ পঞ্চগড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট পরিদর্শন রাজশাহী নগরীর সড়ক বিভাজকে গাছের পরিচর্যা পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক সৌদিতে ৫৫ হাজার টাকার চাকরির স্বপ্ন, দেশে ফিরে সর্বস্বান্ত সাইফুল

সৌদিতে ৫৫ হাজার টাকার চাকরির স্বপ্ন, দেশে ফিরে সর্বস্বান্ত সাইফুল

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

Bagatipara Press Conference photo

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদিতে ৫৫ হাজার টাকার চাকরির স্বপ্ন, দেশে ফিরে সর্বস্বান্ত সাইফুল

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
ভালো বেতনের চাকরি করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার সাইফুল ইসলাম। কিন্তু বিদেশে গিয়ে চাকরির বদলে বন্দিজীবন, নির্যাতন আর দেশে ফেরার পর নতুন করে হুমকির অভিযোগ-সব মিলিয়ে তার সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সাইফুলের অভিযোগ, সৌদিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৪২ শতক জমি। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর টাকা ও জমি ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি। নিরাপত্তাহীনতায় বর্তমানে ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন এই ভুক্তভোগী।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগাতিপাড়া উপজেলার একটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সাইফুল ইসলাম। তিনি উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।

সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, একই গ্রামের মৃত কালাচাঁদের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী শাকিল আলী তাকে সৌদি আরবের একটি চকলেট কোম্পানিতে মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ওই আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে তিনি শাকিলের হাতে নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। এর পাশাপাশি বিদেশ যাওয়ার খরচের জন্য নিজের নামে থাকা বজরাপুর মৌজার ৪২ শতক ধানি জমি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বন্ধক দেন বলে জানান সাইফুল।

সাইফুল জানান, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফ্লাইটে তাকে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাকে একটি কক্ষে প্রায় এক মাস আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ঠিকমতো খাবার ও পানিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে বেঁচে থাকার জন্য তাকে টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

এ সময় দেশে থাকা পরিবারের কাছে আরও ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন সাইফুল। পরে দেশে থাকা পরিবারের মাধ্যমে সৌদিতে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে তার আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে জানান সাইফুল। তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে। পরে গত ২২ জুন তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে সাইফুল তার দেওয়া টাকা ও বন্ধক রাখা জমি ফেরত চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

সাইফুলের দাবি, গত ১২ আগস্ট অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর, ১৪ আগস্ট কয়েকজন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে এএসআই দুলালের উপস্থিতিতে তাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফুল বলেন, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছি। এখন দেশে ফিরে নিজের টাকা ও জমি চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও জমি ফেরত এবং শাকিল আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, সাইফুল ইসলামের জমির বন্ধকনামায় তিনি সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে আর্থিক লেনদেনের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিদেশে যাওয়ার বিষয়েই সাইফুল জমিটি বন্ধক দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। থানায় সালিশ এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টির কথাও তিনি স্বীকার করেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, রোববার (৩০ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাইফুল ইসলামের অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিল আলী বা অন্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে ৫৫ হাজার টাকার চাকরির স্বপ্ন, দেশে ফিরে সর্বস্বান্ত সাইফুল

আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদিতে ৫৫ হাজার টাকার চাকরির স্বপ্ন, দেশে ফিরে সর্বস্বান্ত সাইফুল

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
ভালো বেতনের চাকরি করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার সাইফুল ইসলাম। কিন্তু বিদেশে গিয়ে চাকরির বদলে বন্দিজীবন, নির্যাতন আর দেশে ফেরার পর নতুন করে হুমকির অভিযোগ-সব মিলিয়ে তার সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সাইফুলের অভিযোগ, সৌদিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৪২ শতক জমি। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর টাকা ও জমি ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি। নিরাপত্তাহীনতায় বর্তমানে ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন এই ভুক্তভোগী।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাগাতিপাড়া উপজেলার একটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সাইফুল ইসলাম। তিনি উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর দহপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।

সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, একই গ্রামের মৃত কালাচাঁদের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী শাকিল আলী তাকে সৌদি আরবের একটি চকলেট কোম্পানিতে মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ওই আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে তিনি শাকিলের হাতে নগদ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। এর পাশাপাশি বিদেশ যাওয়ার খরচের জন্য নিজের নামে থাকা বজরাপুর মৌজার ৪২ শতক ধানি জমি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বন্ধক দেন বলে জানান সাইফুল।

সাইফুল জানান, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফ্লাইটে তাকে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাকে একটি কক্ষে প্রায় এক মাস আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ঠিকমতো খাবার ও পানিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে বেঁচে থাকার জন্য তাকে টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

এ সময় দেশে থাকা পরিবারের কাছে আরও ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন সাইফুল। পরে দেশে থাকা পরিবারের মাধ্যমে সৌদিতে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে তার আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে জানান সাইফুল। তিন মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে। পরে গত ২২ জুন তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে সাইফুল তার দেওয়া টাকা ও বন্ধক রাখা জমি ফেরত চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

সাইফুলের দাবি, গত ১২ আগস্ট অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর, ১৪ আগস্ট কয়েকজন ভাড়াটে লোক নিয়ে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে এএসআই দুলালের উপস্থিতিতে তাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফুল বলেন, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছি। এখন দেশে ফিরে নিজের টাকা ও জমি চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও জমি ফেরত এবং শাকিল আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, সাইফুল ইসলামের জমির বন্ধকনামায় তিনি সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে আর্থিক লেনদেনের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিদেশে যাওয়ার বিষয়েই সাইফুল জমিটি বন্ধক দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। থানায় সালিশ এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টির কথাও তিনি স্বীকার করেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, রোববার (৩০ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাইফুল ইসলামের অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিল আলী বা অন্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।