ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেঁতুলিয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে ‘পাঠ্যক্রমভিত্তিক নাট্যভাবনা’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেরপুর সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস আটক নলডাঙ্গায় বিষধর সাপের কামড়ে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় কয়েলের আগুনে পুড়ে দুই ষাঁড়ের মৃত্যু, ক্ষতি ৩ লাখ টাকা রাণীশংকৈলে নারী ফুটবলারদের জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উপহার রাণীশংকৈলে ইএসডিওর বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, অসহায় মানুষের চোখে ফিরছে আলো দেবীগঞ্জে গৃহবধূকে অ/মানবিক নি র্যা ত নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ পঞ্চগড়ে সীমান্তে নবনির্মিত বিওপির কার্যক্রম উদ্বোধন মান্দার প্রসাদপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, তিন মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা মহাদেবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাপাহারের সেনাসদস্য নিহত

রাসিকের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাসিকের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন

দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা দুই দিন ধরে আন্দোলন করছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন বুধবারও সারাদিন চলে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে করপোরেশনের সব দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফটক অবরোধ থাকায় কোনো কর্মকর্তা বা সেবাগ্রহীতা ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি।

পরিচ্ছন্নতা বিভাগের শ্রমিকদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলনের ফলে “পরিচ্ছন্ন নগরী” হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

রাসিকের বিভিন্ন বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিক প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। তাদের প্রতিদিনের মজুরি নির্ধারিত ৬০০ টাকা হলেও বাস্তবে পাচ্ছেন মাত্র ৪৮৪ টাকা। তাছাড়া একদিন অনুপস্থিত থাকলেই তারা বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হন।

শ্রমিকরা জানান, গত জানুয়ারিতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৭৫০ টাকা ও অদক্ষ শ্রমিকদের ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাসিক তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

ফটক অবরোধ করে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সকল শ্রমিক-কর্মচারীর মাসিক বেতন ন্যূনতম ২২,৫০০ টাকা করতে হবে। মাসের তিন তারিখের মধ্যে বেতন প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। উৎসবভাতা চালু ও বিনা কারণে চাকরিচ্যুতি বন্ধ করতে হবে। চাকরি স্থায়ী করার পাশাপাশি অবসরের সময় অন্তত পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে।

পরিবহন শাখার চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণে কমিটি গঠন হলেও তিন মাসেও কোনো বৈঠক হয়নি। তাই বেতন বাড়েনি।”

পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম জানান, “চার মাস আগে কাজ করতে গিয়ে আহত হলেও সিটি করপোরেশন চিকিৎসা ব্যয় দেয়নি, বরং কাজ না করায় বেতন বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবার নিয়ে এখন চরম কষ্টে আছি।”

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে কিছু দাবি আইনবহির্ভূত। তাদের মধ্যে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। কারও প্ররোচনা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাসিকের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন

আপডেট সময় : ০২:১২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

রাসিকের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন

দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা দুই দিন ধরে আন্দোলন করছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন বুধবারও সারাদিন চলে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে করপোরেশনের সব দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফটক অবরোধ থাকায় কোনো কর্মকর্তা বা সেবাগ্রহীতা ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি।

পরিচ্ছন্নতা বিভাগের শ্রমিকদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলনের ফলে “পরিচ্ছন্ন নগরী” হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

রাসিকের বিভিন্ন বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিক প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। তাদের প্রতিদিনের মজুরি নির্ধারিত ৬০০ টাকা হলেও বাস্তবে পাচ্ছেন মাত্র ৪৮৪ টাকা। তাছাড়া একদিন অনুপস্থিত থাকলেই তারা বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হন।

শ্রমিকরা জানান, গত জানুয়ারিতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৭৫০ টাকা ও অদক্ষ শ্রমিকদের ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাসিক তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

ফটক অবরোধ করে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সকল শ্রমিক-কর্মচারীর মাসিক বেতন ন্যূনতম ২২,৫০০ টাকা করতে হবে। মাসের তিন তারিখের মধ্যে বেতন প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। উৎসবভাতা চালু ও বিনা কারণে চাকরিচ্যুতি বন্ধ করতে হবে। চাকরি স্থায়ী করার পাশাপাশি অবসরের সময় অন্তত পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে।

পরিবহন শাখার চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণে কমিটি গঠন হলেও তিন মাসেও কোনো বৈঠক হয়নি। তাই বেতন বাড়েনি।”

পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম জানান, “চার মাস আগে কাজ করতে গিয়ে আহত হলেও সিটি করপোরেশন চিকিৎসা ব্যয় দেয়নি, বরং কাজ না করায় বেতন বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবার নিয়ে এখন চরম কষ্টে আছি।”

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে কিছু দাবি আইনবহির্ভূত। তাদের মধ্যে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। কারও প্ররোচনা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”