ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, শিশুসহ আহত ৫ সংসদে যেতে চান আদিবাসী নেত্রী সুমী মুর্মু খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন হবে: নাটোরে হুইপ দুলু পুঠিয়ায় একদিনে ডাবল অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা সিংড়া থেকে হজযাত্রী নিয়ে মাছুম এয়ার ট্রাভেলসের যাত্রা শুরু বনপাড়ার পাওয়ার গ্রিড ডাকাতি: জেলখানায় বসেই পরিকল্পনা, ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার আ’হত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে রাবি মেডিকেলে তালা রাঙামাটিতে সাংগ্রাই জল উৎসবে মাতোয়ারা মারমা তরুণ-তরুণী রায়গঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই দরিদ্র কৃষকের ঘরবাড়ি পঞ্চগড়ে মাদকসহ ৩ জন আটক, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ মোট ৪ জন গ্রেপ্তার

জিনের পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে প্রতারণা; ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রতারক!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জিনের পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে প্রতারণা; ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রতারক!

নাজমুল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
জিনের পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে প্রতারণা; ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রতারক! জিনের সোনার পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের। এদিকে অভিযোগ দেওয়ার আটদিন রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ ইকবাল ও সহকারী পুলিশ সুপার (রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় নয়, তাছাড়া এ ঘটনার কোনো সাক্ষী-প্রমাণ নেই। এ কারণে তারা মামলাটি নিতে পারছেন না।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল এলাকার আব্দুল বারেকের স্ত্রী নাজমা বেগম (ছুটুনিবুড়ি) একই উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজাহাট এলাকার মোজাফ্ফর রহমানের সাথে আত্নীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত বৃস্প্রতিবার (১০ নভেম্বর) রাতে মোজাফ্ফর দম্পতি নাজমা বেগমের বাড়িতে গেলে নাজমা তাদের জানায় তার ঘরে ‘জিনের পুতুল’সহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার রয়েছে। তবে এগুলো মাটি থেকে তুলতে গেলে জিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চার মসজিদে চার লাখ দান করতে হবে। আর এসব টাকা মোজাফ্ফরের কাছ থেকে হাওলাত চান নাজমা বেগম। পুতুল বিক্রি করে টাকা শোধ করবে এই মর্মে মোজাফফর আড়াই লাখা টাকা নাজমাকে দেন। টাকা পেয়ে মোজাফফর দম্পতিকে বাড়িতে রেখে জিনের পুতুল আনতে গেলে তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে নাজমাসহ আটজনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোজাফ্ফর রহমান।

নাজমা বেগমের প্রতারণার জালে ধরা পড়েন একই উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ এলাকার রশিদুল ইসলাম। জানান, আমাকেও নাজমা জিনের পুতুলের কথা এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একইভাবে প্রতারণার শিকার হন উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের ভম্বল বানিয়া। তার কাছে জিনের পুতুলের স্বর্ণ বিক্রি করবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন নাজমা বেগম। পরে টাকা চাইলে ভম্বল বানিয়াকে ভয়ভীতি দেখান নাজমা গ্যাং।

স্থানীয়রা জানান, নাজমা বেগম (ছুটুনিবুড়ি) ‘র একটি বিশাল গ্যাং রয়েছে। তারা মাঝে মধ্যেই মানুষকে বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত করছে। এদের বিরুদ্ধে শক্তিশালীভাবে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিনের পর দিন আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আর পুলিশেই বা কেন মামলা ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঘটনার আটদিনেও কেন পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। এর রহস্য কি? প্রতারকদের বিরুদ্ধে এখনই শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ভুক্তভোগী মোজাফ্ফর রহমান জানায়, নাজমা বেগমের কাছে যারা প্রতারিত হয়েছে তাঁরা স্বর্ণের পুতুল ও রুপার টাকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি তাঁকে সরল মনে টাকা ধার দিয়ে সহযোগীতা করতে চেয়েছিলাম। এভাবে প্রতারিত হবো ভাবতে পারিনি। ঘটনার পরের দিন শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকালে যখন ঘটনাস্থলে যাই। সেখানকার লোকজন বললো নাজমার একটি গ্রুপ আছে তারা দীর্ঘদিন যাবত এমন প্রতারণামূলক কাজ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা করে কোন লাভ নেই। এরা শক্তিশালী চক্র।

হ্নদয় নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি। নাজমার একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। তারা জিনের কথা বলে অনেক মানুষের অর্থ আত্নসাত করেছে। তারা এতটাই শক্তিশালী যে ভয়ে কেউ কথা বলতে চাই না। ইতোমধ্যে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছে তারা রাণীশংকৈল থানা অভিযোগ দেয়। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ভুক্তভোগীদের পীরগঞ্জ থানায় মামলা করতে বলেন। পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হয়রানী করায় তাহলে তো অপরাধীরা আরো সাহস পেয়ে বসবে।

ঠাকুরগাঁও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি, রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান বলেন, মোজাফ্ফর রহমানের অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। কোন অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জিনের পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে প্রতারণা; ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রতারক!

আপডেট সময় : ০২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২

জিনের পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে প্রতারণা; ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রতারক!

নাজমুল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
জিনের পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে প্রতারণা; ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রতারক! জিনের সোনার পুতুল ও রুপার টাকা দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের। এদিকে অভিযোগ দেওয়ার আটদিন রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ ইকবাল ও সহকারী পুলিশ সুপার (রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় নয়, তাছাড়া এ ঘটনার কোনো সাক্ষী-প্রমাণ নেই। এ কারণে তারা মামলাটি নিতে পারছেন না।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল এলাকার আব্দুল বারেকের স্ত্রী নাজমা বেগম (ছুটুনিবুড়ি) একই উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজাহাট এলাকার মোজাফ্ফর রহমানের সাথে আত্নীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত বৃস্প্রতিবার (১০ নভেম্বর) রাতে মোজাফ্ফর দম্পতি নাজমা বেগমের বাড়িতে গেলে নাজমা তাদের জানায় তার ঘরে ‘জিনের পুতুল’সহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার রয়েছে। তবে এগুলো মাটি থেকে তুলতে গেলে জিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চার মসজিদে চার লাখ দান করতে হবে। আর এসব টাকা মোজাফ্ফরের কাছ থেকে হাওলাত চান নাজমা বেগম। পুতুল বিক্রি করে টাকা শোধ করবে এই মর্মে মোজাফফর আড়াই লাখা টাকা নাজমাকে দেন। টাকা পেয়ে মোজাফফর দম্পতিকে বাড়িতে রেখে জিনের পুতুল আনতে গেলে তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে নাজমাসহ আটজনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোজাফ্ফর রহমান।

নাজমা বেগমের প্রতারণার জালে ধরা পড়েন একই উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ এলাকার রশিদুল ইসলাম। জানান, আমাকেও নাজমা জিনের পুতুলের কথা এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একইভাবে প্রতারণার শিকার হন উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের ভম্বল বানিয়া। তার কাছে জিনের পুতুলের স্বর্ণ বিক্রি করবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন নাজমা বেগম। পরে টাকা চাইলে ভম্বল বানিয়াকে ভয়ভীতি দেখান নাজমা গ্যাং।

স্থানীয়রা জানান, নাজমা বেগম (ছুটুনিবুড়ি) ‘র একটি বিশাল গ্যাং রয়েছে। তারা মাঝে মধ্যেই মানুষকে বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত করছে। এদের বিরুদ্ধে শক্তিশালীভাবে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিনের পর দিন আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আর পুলিশেই বা কেন মামলা ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঘটনার আটদিনেও কেন পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। এর রহস্য কি? প্রতারকদের বিরুদ্ধে এখনই শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ভুক্তভোগী মোজাফ্ফর রহমান জানায়, নাজমা বেগমের কাছে যারা প্রতারিত হয়েছে তাঁরা স্বর্ণের পুতুল ও রুপার টাকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি তাঁকে সরল মনে টাকা ধার দিয়ে সহযোগীতা করতে চেয়েছিলাম। এভাবে প্রতারিত হবো ভাবতে পারিনি। ঘটনার পরের দিন শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকালে যখন ঘটনাস্থলে যাই। সেখানকার লোকজন বললো নাজমার একটি গ্রুপ আছে তারা দীর্ঘদিন যাবত এমন প্রতারণামূলক কাজ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা করে কোন লাভ নেই। এরা শক্তিশালী চক্র।

হ্নদয় নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি। নাজমার একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। তারা জিনের কথা বলে অনেক মানুষের অর্থ আত্নসাত করেছে। তারা এতটাই শক্তিশালী যে ভয়ে কেউ কথা বলতে চাই না। ইতোমধ্যে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছে তারা রাণীশংকৈল থানা অভিযোগ দেয়। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ভুক্তভোগীদের পীরগঞ্জ থানায় মামলা করতে বলেন। পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হয়রানী করায় তাহলে তো অপরাধীরা আরো সাহস পেয়ে বসবে।

ঠাকুরগাঁও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি, রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান বলেন, মোজাফ্ফর রহমানের অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। কোন অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।