গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, শিশুসহ আহত ৫
- আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, শিশুসহ আহত ৫
পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ, আতঙ্কে এলাকাবাসী
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি পৌর এলাকার শ্রীমন্তপুর, বুজরুকপাড়া, হাটপাড়া ও সারাংপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে শ্রীমন্তপুর গ্রামে কুকুরের বর্বরোচিত আক্রমণে ৩ বছরের এক শিশুর নাকের মাংস ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকালে শ্রীমন্তপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন তিতুর ৩ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ বাড়ির পাশে অবস্থানকালে একটি পাগলা কুকুর তাকে আক্রমণ করে। এতে শিশুটির নাকের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই দিন মোমিমুল (৫৮) নামের এক বৃদ্ধকেও আক্রমণ করে কুকুরটি। তার কপালে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এছাড়া বুজরুকপাড়া এলাকার তাজকেরা বেগম বেবি (৩৫) কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে বাড়িতে থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন।
আহতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পথচারী ও বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। তারা গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই লাঠিসোটা ছাড়া বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দীন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “পৌর এলাকায় কুকুরের উপদ্রব ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন নির্বিকার। একের পর এক মানুষ আহত হচ্ছে, অথচ এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, “কুকুরের আক্রমণের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। আক্রান্তদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ থাকায় বন্ধ্যত্বকরণ ও ভ্যাকসিনেশনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















