পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়ার ভিডিও থাকার দাবি
- আপডেট সময় : ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়ার ভিডিও থাকার দাবি
মো. কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে রিভিশন মামলার মঞ্জুর আদেশের অনুলিপি সরবরাহের জন্য পেশকার পলাশের বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী এক সাংবাদিকের দাবি, একপর্যায়ে ৪০০ টাকা নেওয়ার পর অনুলিপি দিতে কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানান ওই কর্মচারী। পরে টাকা ফেরত দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনের একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই সাংবাদিক।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে তার এক নিকটাত্মীয়ের একটি রিভিশন মামলা মঞ্জুর হয়। ওই মামলার আদেশের অনুলিপি সংগ্রহ করতে তিনি পেশকার পলাশের কাছে যান। এ সময় অনুলিপি সরবরাহের জন্য তাঁর কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৪০০ টাকা নেওয়ার পর অনুলিপি দিতে সময় চাওয়ার অভিযোগ
ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ৪০০ টাকা দিলে পেশকার তা পকেটে রাখেন। পরে জানান, তখনই আদেশের অনুলিপি দেওয়া সম্ভব নয়, কয়েক দিন সময় লাগবে। টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পেশকার বলেন, রিভিশন মঞ্জুর হয়েছে, আপনাদের পক্ষে এসেছে, এজন্য নিয়েছি- এমনটাই দাবি করেছেন ওই সাংবাদিক।
সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি টাকা ফেরত চাইলে পেশকার ৪০০ টাকা ফেরত দেন। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় তাকে বলতে শোনা যায়, তুই আর এখানে আসিস না। নকলের জন্য আবেদন করিস।
এরপর অনুলিপি দিতে পারবেন কি না জানতে চাইলে পেশকার বলেন, পারলেও দিবো না। পরে টাকা দিলে অনুলিপি দেওয়া সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হ্যাঁ, টাকা হলে পারবো বলেন বলে অভিযোগকারী সাংবাদিক দাবি করেছেন।
কথোপকথনের ভিডিও থাকার দাবি
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দাবি, পুরো কথোপকথনের একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে টাকা দাবি, টাকা গ্রহণ, পরে ফেরত দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনের অংশ রয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, সম্পূর্ণতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওই সাংবাদিক বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যান্য বিচারপ্রার্থীরও অভিযোগ
প্রতিবেদনে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতে বিভিন্ন কাজে আসা বিচারপ্রার্থী, তাঁদের স্বজন, আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীদের কাছ থেকেও পেশকার পলাশ অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিচারপ্রার্থীর দাবি, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়ার কথা এমন কাজেও অর্থ চাওয়া হয়; টাকা না দিলে হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলে তাঁদের অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা নথি পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও বক্তব্যও আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা
অভিযোগের বিষয়ে পেশকার পলাশের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদক জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বৈদ্য নাথ বর্মণের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদক জানান। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন জরুরি।



















