ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি রায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট গোদাগাড়ীতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৮০ দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মামলা প্রত্যাহার ও ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন রাজশাহীতে গুমের শিকার পরিবারের স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন পঞ্চগড় সীমান্তে নারী ও শিশুসহ আ/ট/ক, পতাকা বৈঠকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ উপলক্ষে মানববন্ধন, ৫ দফা দাবি তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে উত্তেজনার পর বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক গারো পাহাড়ে বনের জমি বেদখল, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য গুরুদাসপুরে পুকুর থেকে নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

collected pic

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

“ছেলের হাড় হলেও ফেরত দিন”—ইমাম হাসান বাদলের মায়ের হৃদয়বিদারক আহ্বান

“আমার ছেলের অনেক খোঁজ করেছি, এলাকার মন্ত্রী-এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। সরকারের কাছে দাবি, গুমের শিকার আমার ছেলের হাড় হলেও আমাকে ফেরত দিন। ১৪ বছর ধরে আমি অপেক্ষায় আছি।”

এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের নিখোঁজ সন্তানের জন্য আকুতি জানান মা মিনারা বেগম। ২০১২ সালের ৫ মার্চ ঢাকার ফার্মগেট এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ইমাম হাসান বাদলকে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ বাদলের মা মিনারা বেগম বলেন, তার ছেলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তার বাবা রুহুল আমিন ছেলেকে ফিরে পেতে থানায় জিডি করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন। ছেলের শোকে তিনি পরবর্তীতে মারা যান বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্ক ও পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক এলাকায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, দেশে অতীত সময়ে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা আর কখনো যেন না ঘটে। তারা গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, গুমের শিকার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বিচারহীনতার অবসানের দাবি জানান।

এছাড়া বক্তারা দাবি করেন, গুমের ঘটনায় জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং নিখোঁজদের বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

মানববন্ধনে অধিকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিও পাঠ করা হয়, যেখানে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

“ছেলের হাড় হলেও ফেরত দিন”—ইমাম হাসান বাদলের মায়ের হৃদয়বিদারক আহ্বান

“আমার ছেলের অনেক খোঁজ করেছি, এলাকার মন্ত্রী-এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। সরকারের কাছে দাবি, গুমের শিকার আমার ছেলের হাড় হলেও আমাকে ফেরত দিন। ১৪ বছর ধরে আমি অপেক্ষায় আছি।”

এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের নিখোঁজ সন্তানের জন্য আকুতি জানান মা মিনারা বেগম। ২০১২ সালের ৫ মার্চ ঢাকার ফার্মগেট এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ইমাম হাসান বাদলকে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ বাদলের মা মিনারা বেগম বলেন, তার ছেলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তার বাবা রুহুল আমিন ছেলেকে ফিরে পেতে থানায় জিডি করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন। ছেলের শোকে তিনি পরবর্তীতে মারা যান বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্ক ও পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক এলাকায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, দেশে অতীত সময়ে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা আর কখনো যেন না ঘটে। তারা গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, গুমের শিকার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বিচারহীনতার অবসানের দাবি জানান।

এছাড়া বক্তারা দাবি করেন, গুমের ঘটনায় জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং নিখোঁজদের বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

মানববন্ধনে অধিকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিও পাঠ করা হয়, যেখানে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।