রাজশাহী মহানগর আ.লীগ কার্যালয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় ‘অর্পিত সম্পত্তি’র সাইনবোর্ড
- আপডেট সময় : ০৬:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী মহানগর আ.লীগ কার্যালয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় ‘অর্পিত সম্পত্তি’র সাইনবোর্ড
জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে সরকারি নিয়ন্ত্রণে সম্পত্তি; আগে আগুন, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের বিধ্বস্ত ও পরিত্যক্ত কার্যালয়ের জায়গায় ‘অর্পিত সম্পত্তি’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত আলোচিত জায়গাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই জায়গায় এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের টানানো সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, জায়গাটি ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি (Vested and Non-Resident Property)। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সম্পত্তিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর।
সাইনবোর্ডে সম্পত্তিটির বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সম্পত্তিটি রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার রামপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর ১০, খতিয়ান নম্বর ১৮ এবং দাগ নম্বর ২৮১। জমির শ্রেণি ‘বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর মোট পরিমাণ ০.৪৯৫৬ একর। এছাড়া ভিপি কেস নম্বর ২/৭৬ উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই জায়গাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে দখল, ব্যবহার ও মালিকানা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে জায়গাটির সরকারি অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র লুটপাটেরও অভিযোগ ওঠে। পরে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার ব্যানারে বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর আরও দু’দফা বুলডোজার চালিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় কতিপয় ব্যক্তি ভবনের ইট ও রডও নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জুলাই যোদ্ধাদের নামে পরিত্যক্ত এই জায়গাটিকে পাবলিক টয়লেট (গণসৌচাগার) হিসেবে ঘোষণা দিয়ে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে রাতের আঁধারে সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, পরিত্যক্ত জায়গাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আগ্রহ ও অনানুষ্ঠানিক দখলচেষ্টার প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















