পঞ্চগড়ে আকস্মিক ঝড়ে গাছচাপায় বৃদ্ধার মৃ/ত্যু, আহত ২; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষ/তি
- আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৬২ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে আকস্মিক ঝড়ে গাছচাপায় বৃদ্ধার মৃ/ত্যু, আহত ২; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষ/তি
শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড একাধিক গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি
পঞ্চগড়ে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গাছচাপায় চাকাতি বালা (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় জেলার অন্য এলাকায় দুইজন আহত হয়েছেন। এছাড়া বোদা, আটোয়ারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ১২টার দিকে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঝড় ও বজ্রপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় চাকাতি বালা নিজ বসতঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় বাড়ির পাশে থাকা একটি বড় ‘সড়কজিয়া’ গাছ উপড়ে গিয়ে সরাসরি ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চাকাতি বালা গাছের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে হরেণ চন্দ্র বলেন, “ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গাছটি পড়ার পরপরই আমরা কেউ ঘর থেকে বের হতে পারিনি। ঝড় থামার পর গিয়ে দেখি মা গাছের নিচে চাপা পড়ে আছেন।”
ঘটনার পরপরই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, চাল ও শুকনা খাবার প্রদান করেন।
এদিকে, ধাক্কামারা ইউনিয়নের ঘাটিয়ারপাড়া এলাকায় ঝড়ের সময় একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের দেয়াল ধসে পড়ে পাশের একটি বসতঘরের ওপর। এতে ময়নুল ইসলাম (৫০) ও তার স্ত্রী খুকুমণি (৩৮) আহত হন।
অন্যদিকে, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোদা ও আটোয়ারী উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, ধামোর, বলরামপুর, তোড়েয়া এবং বোদা উপজেলার সদর, ঝলইশালশিড়ি, ময়দানদিঘী, বেংহারী, চন্দনবাড়ি, এছাড়া পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ে টিনের চালা উড়ে গেছে, অনেক ঘরের টিন ফুটো হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং লাউ, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের একর একর জমি নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ সময়ে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা মনি দেবী জানান, “ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”




















