বদলির আদেশ অমান্য করে পীরগঞ্জেই বহাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

বদলির আদেশ অমান্য করে পীরগঞ্জেই বহাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
সিভিল সার্জনের একাধিক নির্দেশের পরও রানীশংকৈলে যোগদান না করায় প্রশ্ন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একাধিকবার বদলির আদেশ জারি হলেও তা মানছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই বহাল থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পার্শ্ববর্তী রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়। আদেশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়; অন্যথায় ষষ্ঠ কর্মদিবসে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ ছিল।
কিন্তু আদেশ জারির ৪১ দিন পার হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে তিনি পীরগঞ্জেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ অবস্থায় ১৯ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পুনরায় তাকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরপূর্বক রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে পূর্বে দায়িত্ব হস্তান্তর না করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ায় নতুন কর্মস্থলে যোগদানে আর কোনো বাধা নেই।
তবে ২২ ফেব্রুয়ারি পার হলেও তিনি যোগদান না করায় একই দিনে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আবারও নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, দায়িত্ব হস্তান্তর না করে এবং সিভিল সার্জনকে অবহিত না করে ই-মেইলের মাধ্যমে নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং চাকরি বিধির পরিপন্থী। তার নৈমিত্তিক ছুটি নামঞ্জুর করে অতিসত্তর যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, পীরগঞ্জে কর্মরত থাকতেই তিনি বিভিন্নভাবে তদবির করে যাচ্ছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পীরগঞ্জে নিজ বাসায় ‘কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি আরও কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার শেয়ার রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অফিস সময়েই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
এ ছাড়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আরমিনা আক্তারকে বদলির অভিযোগ ওঠে। পরে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগ ওই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে আগের কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানপত্র গ্রহণ না করায় তিনি কার্যত কাজে যোগ দিতে পারেননি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না হয়েও স্থানীয় কিছু বেসরকারি ও অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজারসহ অপারেশনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. কামাল আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বদলিকৃত কর্মস্থলে সময়মতো যোগদান করতে পারেননি। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলে জানান।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা বদলির আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করার পরও যোগদান না করায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী বদলির আদেশ অমান্য করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















