বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও ‘গ্রিন গ্রিড’ দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও ‘গ্রিন গ্রিড’ দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
খসড়া ইপিএসএমপি বাতিল ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের প্রণীত খসড়া মহাপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় ‘শতভাগ গ্রিন গ্রিড’ নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর অলকার মোড়ে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) প্রণয়নের ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ, সাধারণ জনগণ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো ধরনের উন্মুক্ত আলোচনা কিংবা অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। অথচ সে সীমা অতিক্রম করে দীর্ঘমেয়াদি, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কর্মসূচিতে আরও বলা হয়, অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ব্যবহার করে যেভাবে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৫ সেই একই পথে ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে।
বক্তারা দাবি করেন, খসড়া মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ, যেখানে নথিতে তা ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫ দশমিক ৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভরতা থেকে যাবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা সতর্ক করেন।
এ ছাড়া হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ (সিসিএস)-এর মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করাকে অবাস্তব উল্লেখ করে বলা হয়, এতে ভবিষ্যতে দেশ নতুন ঋণ, ভর্তুকি ও পরিবেশগত সংকটে পড়তে পারে।
মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়—
১) অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) স্থগিত ও বাতিল করতে হবে।
২) নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
৩) জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে বাস্তবসম্মত শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
৪) ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং পরিবর্তন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম–রাজশাহী ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উন্নয়নকর্মী হাসিবুল হাসান, লিয়াকত আলী, পঙ্কজ কর্মকার এবং পরিবর্তন-এর পরিচালক রাশেদ রিপন।




















