ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীর সিটি হাট ঘিরে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন

সাপাহারে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটায় পরিবেশ ও কৃষি হুমকিতে

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাপাহারে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটায় পরিবেশ ও কৃষি হুমকিতে

দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় মৌখিক অনুমতির দোহাই দিয়ে প্রায় প্রতিটি এলাকায় দিন-রাত ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও কৃষি উভয়ই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে ৫নং পাতাড়ী ইউনিয়ন, আইহাই ইউনিয়ন ও শিরন্টী ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে ২–৩ ফুট গভীরতার টপ সয়েল কেটে সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে শত শত ট্রলি ও ট্রাক্টার (কাঁকড়া) সড়কে চলাচল করছে।

এসব ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রলি ও ট্রাক্টারে বহন করা মাটি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত যান চলাচলের ফলে সারাদিন রাস্তাঘাট ধুলোর কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টির সময় সড়কে জমে থাকা মাটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মাহবুর রহমান বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে জমির মালিকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নেয় এবং তা বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় বিক্রি করে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে অপরিকল্পিত মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমছে এবং ধীরে ধীরে সাপাহার উপজেলার ভৌগোলিক চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভেকু মালিক ও মাটি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, মানুষের প্রয়োজনেই তারা মাটি কাটেন। তবে মৌখিক অনুমতির পরিবর্তে লিখিত অনুমতি দেওয়া হলে হয়রানি কমবে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে জমির মালিক মুন্টু মিয়া বলেন, নিজেদের প্রয়োজনেই তারা নিজ নিজ জমি থেকে মাটি কাটছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাপাহারে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটায় পরিবেশ ও কৃষি হুমকিতে

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

সাপাহারে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটায় পরিবেশ ও কৃষি হুমকিতে

দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় মৌখিক অনুমতির দোহাই দিয়ে প্রায় প্রতিটি এলাকায় দিন-রাত ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও কৃষি উভয়ই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে ৫নং পাতাড়ী ইউনিয়ন, আইহাই ইউনিয়ন ও শিরন্টী ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে ২–৩ ফুট গভীরতার টপ সয়েল কেটে সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে শত শত ট্রলি ও ট্রাক্টার (কাঁকড়া) সড়কে চলাচল করছে।

এসব ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রলি ও ট্রাক্টারে বহন করা মাটি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত যান চলাচলের ফলে সারাদিন রাস্তাঘাট ধুলোর কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টির সময় সড়কে জমে থাকা মাটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মাহবুর রহমান বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে জমির মালিকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নেয় এবং তা বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় বিক্রি করে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে অপরিকল্পিত মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমছে এবং ধীরে ধীরে সাপাহার উপজেলার ভৌগোলিক চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভেকু মালিক ও মাটি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, মানুষের প্রয়োজনেই তারা মাটি কাটেন। তবে মৌখিক অনুমতির পরিবর্তে লিখিত অনুমতি দেওয়া হলে হয়রানি কমবে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে জমির মালিক মুন্টু মিয়া বলেন, নিজেদের প্রয়োজনেই তারা নিজ নিজ জমি থেকে মাটি কাটছেন।