শেরপুরের গারো পাহাড়ে আগাম বরবটির বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
- আপডেট সময় : ০৮:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫ ২০৮ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরের গারো পাহাড়ে আগাম বরবটির বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্যে শেরপুরের বরবটি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়
শীতকালীন আগাম সবজি হিসেবে বরবটি চাষ করে শেরপুরের গারো পাহাড় অঞ্চলের কৃষকরা এখন হাসিমুখে দিন কাটাচ্ছেন। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি। একসময় পতিত পড়ে থাকা জমিতে এখন সাফল্যের সঙ্গে চাষ হচ্ছে বরবটি ও শিমসহ বিভিন্ন সবজি।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি এলাকার কৃষকরা জানান, বরবটির চারা রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। এতে খরচ কম, কিন্তু লাভ তুলনামূলক বেশি। ফলে অল্প সময়েই ভালো আয় করে অনেক কৃষক এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২২টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই গারো, কোচ, হাজং, ঢালু ও বানাই সম্প্রদায়ের মানুষ। কয়েক বছর আগেও তাদের অনেক জমি পতিত পড়ে থাকলেও এখন সেই জমিতেই সোনালি ফসল ফলছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতিদিন মেঘাদল ও ঝিনাইগাতীর সন্ধাকুড়া বাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ বরবটি বিক্রির জন্য আনা হয়। এখান থেকে শেরপুর ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় তাজা বরবটি। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার বরবটি বেচাকেনা হয় এইসব বাজারে।
শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, চলতি মৌসুমে ৫০ হেক্টর জমিতে বরবটি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তবে কৃষকরা উৎসাহের সঙ্গে ৬০ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “বরবটি চাষে কৃষকরা ভালো দাম ও ফলন পাচ্ছেন, ফলে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা — শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে বরবটি ও শিম চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, ফলে ফলন ও আয় উভয়ই বেড়েছে।”
একসময় অনাবাদি থাকা গারো পাহাড়ের জমি এখন কৃষকের পরিশ্রমে ফলনশীল হয়ে উঠেছে। এতে পাহাড়ি কৃষকদের জীবনে এসেছে নতুন আলো
– বয়ে যাচ্ছে আনন্দের অনুভূতি।



















