রাজশাহীর বাতাসে বিপজ্জনক মাত্রায় বস্তুকণা: রেলগেট এলাকায় সর্বোচ্চ পি.এম ২.৫
- আপডেট সময় : ০২:১৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর বাতাসে বিপজ্জনক মাত্রায় বস্তুকণা: রেলগেট এলাকায় সর্বোচ্চ পি.এম ২.৫
বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার বায়ু পরীক্ষা বলছে—নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়েছে দূষণ; বিশেষজ্ঞদের আহ্বান, ‘অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশ বিধি মানুন’
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বায়ুতে বিপজ্জনক মাত্রায় ভাসমান বস্তুকণা শনাক্ত করেছে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় শনিবার (২৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী এই বায়ু পরীক্ষা পরিচালিত হয়।
২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত এই গবেষণার অংশ হিসেবে এবারও শহরের রেলগেট, বন্ধগেট এবং বিসিক শিল্প এলাকার বায়ুতে ভাসমান বস্তুকণা পি.এম ২.৫ ও পি.এম ১০-এর মাত্রা নির্ণয় করা হয়। পরীক্ষার নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী ড. মো. জাকির হোসেন খান, সহযোগিতায় ছিলেন ড. অলি আহমেদ, ওবায়দুল্লাহ, শামশুর রহমান শরীফ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, রুমানা আহমেদ ও আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।
ফলাফলে দেখা যায়-রেলগেট মোড়: পি.এম ২.৫ = ৮৫ µg/m³, পি.এম ১০ = ৯৭ µg/m³, বন্ধগেট এলাকা: পি.এম ২.৫ = ৭৮ µg/m³, পি.এম ১০ = ৯১ µg/m³, বিসিক এলাকা: পি.এম ২.৫ = ৫৭ µg/m³, পি.এম ১০ = ৬৯ µg/m³।
বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত মান হলো পি.এম ২.৫-এর ক্ষেত্রে ৬৫ µg/m³ এবং পি.এম ১০-এর জন্য ১৫০ µg/m³। রেলগেট ও বন্ধগেট এলাকায় পাওয়া পি.এম ২.৫ এর মাত্রা এই সীমার অনেক উপরে।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে গড়ে পি.এম ২.৫ ছিল ৭৬ µg/m³, ২০২৩ সালে ৯৭ µg/m³ এবং ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫ µg/m³। চলতি বছরের পর্যবেক্ষণেও দূষণমাত্রা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পি.এম ২.৫ হলো অতিক্ষুদ্র কণা (Fine Particles), যা ফুসফুসের গভীরে গিয়ে রক্তপ্রবাহেও প্রবেশ করতে পারে। এতে শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে পি.এম ১০ (Coarse Particles) চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হয়।
গবেষকরা বলেন, “অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুকুর ভরাট, গাছ কাটা এবং নির্মাণকাজে ‘বাংলাদেশ বায়ু দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধি ২০২২’ না মানার কারণেই বায়ু দূষণ বেড়ে যাচ্ছে।”
তারা পরামর্শ দেন-নগরে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো, বিশেষ করে আম, জাম, নিম, সজনে জাতের গাছ রোপণ, একটি গাছ কাটলে অন্তত তিনটি নতুন গাছ লাগানোর নিশ্চয়তা, অবৈধভাবে দখল হওয়া পুকুর উদ্ধার ও সংরক্ষণ, নির্মাণকাজে বায়ু দূষণবিধি কঠোরভাবে মানা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা ও রাজশাহীর বায়ুদূষণের ৬০-৭০ শতাংশের জন্য দায়ী অপরিকল্পিত নগরায়ন, সড়কের ধুলা, পুরোনো যানবাহন ও নির্মাণকাজে পরিবেশবিধি অমান্য।



















