সাপে কাটা রোগীদের জন্য রামেক হাসপাতালে বিশেষায়িত ওয়ার্ড
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৩৮৯ বার পড়া হয়েছে

সাপে কাটা রোগীদের জন্য রামেক হাসপাতালে বিশেষায়িত ওয়ার্ড
দেশে প্রথমবারের মতো শুধু সাপে কাটা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। সাপে কাটায় মৃত্যুহার কমানো ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ. এম. শামীম আহাম্মদ এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন। হাসপাতালের পুরোনো ক্যানটিনের জায়গায় ১২ শয্যার হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) মানের ওয়ার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এখানে সাপে কাটা রোগীদের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও চিকিৎসা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নতুন ওয়ার্ডে ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রোগীর জন্য শয্যা রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে ওয়ার্ডের বাইরেও জরুরি চিকিৎসা দেওয়া যাবে।
ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, যিনি বর্তমানে রাসেলস ভাইপার সাপের বিষ নিয়ে পিএইচডি গবেষণার শেষ পর্যায়ে আছেন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১,২০৫ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৬০ জন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত, আর বাকিরা নির্বিষ সাপের কামড়ে ছিলেন।
এই সময়ের মধ্যে ৩০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন রাসেলস ভাইপারের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকিরা কালাচ, কেউটে ও গোখরার কামড়ে মারা যান।
ডা. আবু শাহীন বলেন, “২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুহার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এখন চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে তা অনেক কমেছে। নতুন ওয়ার্ডে সমন্বিত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স থাকবেন, পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত থাকবে- ফলে মৃত্যুহার আরও কমে আসবে।”
তিনি আরও জানান, “প্রতিটি রোগীর অ্যান্টিভেনম ডোজের মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এক ডোজে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম লাগে, অনেক সময় একাধিক ডোজও দিতে হয়। তবে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব ওষুধ পাবেন।”
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ. এম. শামীম আহাম্মদ বলেন, “আগে সাপে কাটা রোগীদের বড় ওয়ার্ডের এক কোণায় চিকিৎসা দেওয়া হতো। এখন আলাদা ওয়ার্ড থাকায় তা হবে না। এটি পুরোপুরি মেডিকেল ইমার্জেন্সি ইউনিট-এইচডিইউ সুবিধাসহ, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত থাকবে।”



















