ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ডোবায় পড়ে দিনমজুরের মৃত্যু লালপুরে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিলেন একই পরিবারের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আক্কেলপুরে জমিজমা বিরোধে যুবককে ছু/রি/কা/ঘা/তে হ’ত্যা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে গোমস্তাপুরে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে শিশুর মাথায় পাতিল আটকে বিপত্তি, ওয়ার্কশপে নিয়ে কেটে খুলতে হলো সিলভারের পাতিল ২ মণ গাঁজাসহ রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন ভেড়ামারায় ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, সৎ-নানাকে গণ-ধো/লা/ই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ ঈদুল আজহা সামনে রেখে র‌্যাব-৫-এর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক মা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক কলেজ শিক্ষিকা লাভলী

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক মা!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক মা! ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে রিফাত খন্দকার গালিব নিয়ে বেঁচে থাকা স্বপ্ন দেখতেন কলেজ শিক্ষিকা মা লাভলী বেগম। কিন্তু সেই স্বপ্নও কেঁড়ে নিলো পদ্মা নদী। পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে লাশ হয়ে ফিরলেন কলেজছাত্র রিফাত খন্দকার গালিব। শনিবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মহানগরীর দরগাপাড় এলাকার মৃত গাজী মইদুদ্দিনের ছেলে রিফাত খন্দকার গালিব ও মেহেরচন্ডী এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে সারোয়র সায়েমসহ কয়েকজন বন্ধু ফুটবল খেলা শেষে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে।

এক পর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। সাথে থাকা আরেক শিক্ষার্থী নাসির হাসান পদ্মা নদী থেকে উঠে এসে স্থানীয়দের জানানোর পর জেলাসহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঘটনার পর সারাদিন অভিযান চালিয়েও প্রথমদিন কারো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পদ্মায় নিখোঁজের খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে সায়েম ও গালিবের পরিবারে। রিফাত খন্দকার গার্লিব তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে হঠাৎ করে লাভলী বেগমের স্বামীর মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন মা লাভলী। এসএসসি পাশ করার পর রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। শনিবার ছুটির দিন থাকায় পদ্মানদীর চরে বন্ধুদের সাথে ফুটবল যান গালিব। খেলা শেষে নদীতে গোসল করতে নেমে গালিব ও তার বন্ধু সায়েম। শনিবার ঘটনার পর থেকে লাশ উদ্ধার পর্যন্ত পদ্মার ধারে দুই পরিবারের স্বজনরা আহাজারি করতে থাকে। গালিব পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় বেশী আহাজারি করতে দেখা যায় তার স্বজনদের। প্রথম দিন লাশ না পেয়ে ফিরে যান বাড়ীতে। রোববার (১১ জুন) সকালে সায়েমের লাশ পাওয়া যায়। ততক্ষণে লাশের সন্ধান মেলেনি গালিবের। এতে করে তার পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে নদীর পারে লাশের অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে গালিবের মাসহ স্বজনরা।

প্রচন্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীদের সাথে ছেলের লাশ পাওয়ার আশায় নৌকায় ঘুরতে মা লাভলী। অপরদিকে পদ্মার কিনারে অপেক্ষায় তার স্বজনরা।
গালিবের ফুফু তনিমা বেগমকে আহাজারি করতে দেখা যায়। লাশ পাওয়ার আশায় ছুটে বেড়ান নদীর কিনারের এপাশ থেকে ওপাশে। অপর দিকে মা লাভলী নৌকায় বসে থাকে নির্বাক চোখে। ফুফু তনিমা বেগম আহাজারি করে বলেন, এভাবে কেনো হারিয়ে গেলে বাবা ? তোমার কোন অসুখ হলে ডাক্তার দেখাতাম ভালো হয়ে যেতে।

গালিবের ফুফাতো বোন রিক্তা পারভিন বলেন, গালিব পরিবারের একমাত্র সন্তান। বাবা কলেজ শিক্ষক ছিলেন। তিন বছর আগে মৃত্যু বরণ করলে তার মা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বেঁচে ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন ছেলেকে নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার। কিন্তু সেই স্বপ্নও ভেঙে গেলো। কি নিয়ে বেঁচে থাকবে এই পৃথিবীতে এটাই তার বড় চিন্তা। ছুটির দিন হওয়ায় খেলাধূলা করতে যেতে নিষেধ করেননি কলেজ শিক্ষিকা মা লাভলী। কিন্তু এখানে এসেই যে এমন পরিণতি হবে তা জানা ছিলো না।

এদিকে রোববার দুপুর ১২ টার দিকে গালিবের লাশও উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এই খবর শোনার পর গালিবের মা ও তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আশেপশের বাতাস ভাড়ী হয়ে উঠে আর চিৎকার করে গালিবকে ফিরে পাবার আকুতি করে। গালিবের মা লাভলী একরকম বাকরুদ্ধ অবস্থায় বলেন, আমার বেঁচে থাকার শেষ সম্পদ টুকুও শেষ হয়ে গেলো।
এই ঘটনার পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশের পাশের লোকজন গালিবের মরদেহ এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাতে দেখা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ বলেন,” ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের মোট ছয়জন ডুবুরি উদ্ধার কাজ চালিয়ে গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সাইমের লাশ পাওয়া যায়। গালিবের লাশ পুলিশের মাধ্যমে পরিবারকে বুঝিয়ে দিয়ে উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক মা!

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক মা!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক মা! ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে রিফাত খন্দকার গালিব নিয়ে বেঁচে থাকা স্বপ্ন দেখতেন কলেজ শিক্ষিকা মা লাভলী বেগম। কিন্তু সেই স্বপ্নও কেঁড়ে নিলো পদ্মা নদী। পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে লাশ হয়ে ফিরলেন কলেজছাত্র রিফাত খন্দকার গালিব। শনিবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মহানগরীর দরগাপাড় এলাকার মৃত গাজী মইদুদ্দিনের ছেলে রিফাত খন্দকার গালিব ও মেহেরচন্ডী এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে সারোয়র সায়েমসহ কয়েকজন বন্ধু ফুটবল খেলা শেষে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে।

এক পর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। সাথে থাকা আরেক শিক্ষার্থী নাসির হাসান পদ্মা নদী থেকে উঠে এসে স্থানীয়দের জানানোর পর জেলাসহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঘটনার পর সারাদিন অভিযান চালিয়েও প্রথমদিন কারো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পদ্মায় নিখোঁজের খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে সায়েম ও গালিবের পরিবারে। রিফাত খন্দকার গার্লিব তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে হঠাৎ করে লাভলী বেগমের স্বামীর মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন মা লাভলী। এসএসসি পাশ করার পর রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। শনিবার ছুটির দিন থাকায় পদ্মানদীর চরে বন্ধুদের সাথে ফুটবল যান গালিব। খেলা শেষে নদীতে গোসল করতে নেমে গালিব ও তার বন্ধু সায়েম। শনিবার ঘটনার পর থেকে লাশ উদ্ধার পর্যন্ত পদ্মার ধারে দুই পরিবারের স্বজনরা আহাজারি করতে থাকে। গালিব পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় বেশী আহাজারি করতে দেখা যায় তার স্বজনদের। প্রথম দিন লাশ না পেয়ে ফিরে যান বাড়ীতে। রোববার (১১ জুন) সকালে সায়েমের লাশ পাওয়া যায়। ততক্ষণে লাশের সন্ধান মেলেনি গালিবের। এতে করে তার পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে নদীর পারে লাশের অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে গালিবের মাসহ স্বজনরা।

প্রচন্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীদের সাথে ছেলের লাশ পাওয়ার আশায় নৌকায় ঘুরতে মা লাভলী। অপরদিকে পদ্মার কিনারে অপেক্ষায় তার স্বজনরা।
গালিবের ফুফু তনিমা বেগমকে আহাজারি করতে দেখা যায়। লাশ পাওয়ার আশায় ছুটে বেড়ান নদীর কিনারের এপাশ থেকে ওপাশে। অপর দিকে মা লাভলী নৌকায় বসে থাকে নির্বাক চোখে। ফুফু তনিমা বেগম আহাজারি করে বলেন, এভাবে কেনো হারিয়ে গেলে বাবা ? তোমার কোন অসুখ হলে ডাক্তার দেখাতাম ভালো হয়ে যেতে।

গালিবের ফুফাতো বোন রিক্তা পারভিন বলেন, গালিব পরিবারের একমাত্র সন্তান। বাবা কলেজ শিক্ষক ছিলেন। তিন বছর আগে মৃত্যু বরণ করলে তার মা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বেঁচে ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন ছেলেকে নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার। কিন্তু সেই স্বপ্নও ভেঙে গেলো। কি নিয়ে বেঁচে থাকবে এই পৃথিবীতে এটাই তার বড় চিন্তা। ছুটির দিন হওয়ায় খেলাধূলা করতে যেতে নিষেধ করেননি কলেজ শিক্ষিকা মা লাভলী। কিন্তু এখানে এসেই যে এমন পরিণতি হবে তা জানা ছিলো না।

এদিকে রোববার দুপুর ১২ টার দিকে গালিবের লাশও উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এই খবর শোনার পর গালিবের মা ও তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আশেপশের বাতাস ভাড়ী হয়ে উঠে আর চিৎকার করে গালিবকে ফিরে পাবার আকুতি করে। গালিবের মা লাভলী একরকম বাকরুদ্ধ অবস্থায় বলেন, আমার বেঁচে থাকার শেষ সম্পদ টুকুও শেষ হয়ে গেলো।
এই ঘটনার পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশের পাশের লোকজন গালিবের মরদেহ এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাতে দেখা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ বলেন,” ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের মোট ছয়জন ডুবুরি উদ্ধার কাজ চালিয়ে গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সাইমের লাশ পাওয়া যায়। গালিবের লাশ পুলিশের মাধ্যমে পরিবারকে বুঝিয়ে দিয়ে উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।”