শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাড়কাঁপানো শীত: গভীর রাতে অসহায়দের দ্বারে দ্বারে ইউএনও
গারো পাহাড়ের পাদদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সাধারণ মানুষ। টানা প্রায় ১৫ দিনের কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।
ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, এতিমখানা ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও শীতার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করছেন ইউএনও। জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক অসহায় মানুষের গায়ে তিনি নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর রাতে ঘন কুয়াশায় যখন দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কমে আসে, তখন ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল প্রকৃত শীতার্ত ও সম্বলহীন মানুষদের খুঁজে খুঁজে বের করেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রহীন এসব মানুষের জন্য একটি কম্বলই যেন এখন বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন।
ইউএনও’র এমন আকস্মিক ও মানবিক উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, “এত গভীর রাতে প্রশাসনের একজন বড় কর্মকর্তা আমাদের মতো অসহায় মানুষের খোঁজ নেবেন—এটা কখনো কল্পনাও করিনি।”
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা। এই তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সরাসরি ও মানবিক উদ্যোগ অসহায় মানুষের মাঝে নতুন করে সাহস ও ভরসা জুগিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।




















