রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে
- আপডেট সময় : ০৩:৩০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে
সরকারি সেবা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে নির্ভরতা, বাড়ছে ভোগান্তি ও খরচ
রোগীদের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণে অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, পেশায় একজন কৃষক। অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হলেও এর একটি অংশ বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয়, সেখানে খরচ কম এবং দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরিফ ইসলাম। তিনি বলেন, চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লিখে দিয়েছেন এবং সেখানে কম খরচে পরীক্ষা করা যাবে বলে জানিয়েছেন। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে বাইরে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন। রহনপুর থেকে আসা ফাতেমা খাতুনও অভিযোগ করেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য তাকে হাসপাতালের বাইরে যেতে বলা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, রামেকে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময় ও মানসিক চাপও বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অনেকেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, যারা স্বল্প খরচে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
রামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার তারিক বলেন, প্রায় ১২০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সবসময় প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, প্রেসক্রিপশনে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লেখা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এটি চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। হাসপাতালেই স্বল্পমূল্যে ও মানসম্মতভাবে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম। তিনি বলেন, একটি চক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে বাইরে পরীক্ষা করানোর জন্য প্রলুব্ধ করছে। এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, ব্লাড কালচারসহ প্রায় সব রুটিন টেস্ট হাসপাতালের ভেতরেই করা হচ্ছে।




















