ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে চুরি হওয়া ছাগল উদ্ধার, চোরচক্রের সদস্য গ্রেপ্তার লালপুরে তেল নিতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় নিহত যুবক, চালক-হেলপার আটক খাল খননে বাড়বে কর্মসংস্থান, পানির সংকট দূর হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে বাউয়েটে গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে একাডেমিক উৎকর্ষতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত সিংড়ায় মাছ ব্যবসায়ীকে গলা কে/টে হ/ত্যা, স্ত্রী-ছেলেসহ আটক ৪ নলডাঙ্গায় এক রাতে ৬ ট্রান্সফরমার চুরি, দুশ্চিন্তায় কৃষক ছেলের লাশ দেখে শেষ বিদায়—রাজশাহী কারাগারে মানবিকতার দৃষ্টান্ত মান্দায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মান্দায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে

সরকারি সেবা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে নির্ভরতা, বাড়ছে ভোগান্তি ও খরচ

রোগীদের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণে অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, পেশায় একজন কৃষক। অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হলেও এর একটি অংশ বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয়, সেখানে খরচ কম এবং দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরিফ ইসলাম। তিনি বলেন, চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লিখে দিয়েছেন এবং সেখানে কম খরচে পরীক্ষা করা যাবে বলে জানিয়েছেন। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে বাইরে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন। রহনপুর থেকে আসা ফাতেমা খাতুনও অভিযোগ করেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য তাকে হাসপাতালের বাইরে যেতে বলা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, রামেকে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময় ও মানসিক চাপও বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অনেকেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, যারা স্বল্প খরচে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

রামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার তারিক বলেন, প্রায় ১২০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সবসময় প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, প্রেসক্রিপশনে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লেখা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এটি চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। হাসপাতালেই স্বল্পমূল্যে ও মানসম্মতভাবে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম। তিনি বলেন, একটি চক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে বাইরে পরীক্ষা করানোর জন্য প্রলুব্ধ করছে। এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, ব্লাড কালচারসহ প্রায় সব রুটিন টেস্ট হাসপাতালের ভেতরেই করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে

আপডেট সময় : ০৩:৩০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাইরে

সরকারি সেবা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে নির্ভরতা, বাড়ছে ভোগান্তি ও খরচ

রোগীদের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণে অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, পেশায় একজন কৃষক। অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হলেও এর একটি অংশ বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয়, সেখানে খরচ কম এবং দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরিফ ইসলাম। তিনি বলেন, চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লিখে দিয়েছেন এবং সেখানে কম খরচে পরীক্ষা করা যাবে বলে জানিয়েছেন। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে বাইরে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন। রহনপুর থেকে আসা ফাতেমা খাতুনও অভিযোগ করেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য তাকে হাসপাতালের বাইরে যেতে বলা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, রামেকে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময় ও মানসিক চাপও বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অনেকেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, যারা স্বল্প খরচে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

রামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার তারিক বলেন, প্রায় ১২০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সবসময় প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, প্রেসক্রিপশনে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লেখা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এটি চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। হাসপাতালেই স্বল্পমূল্যে ও মানসম্মতভাবে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম। তিনি বলেন, একটি চক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে বাইরে পরীক্ষা করানোর জন্য প্রলুব্ধ করছে। এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, ব্লাড কালচারসহ প্রায় সব রুটিন টেস্ট হাসপাতালের ভেতরেই করা হচ্ছে।