ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বাগাতিপাড়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, উত্তেজনা ও মারধর

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, উত্তেজনা ও মারধর

নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ, চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ ঠিকাদারের

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরোধ এবং একপর্যায়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বোর্ড ফলক সূত্রে জানা যায়, “উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়, ১ম সংশোধিত)” এর আওতায় স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর কাজের আদেশ দেওয়া হয় এবং ১২ মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৭ টাকা ব্যয়ে সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস”।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ভরাট কাজে বালির পরিবর্তে পুকুরের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ডের পরিপন্থী। তাদের দাবি, যেখানে তিন ভাগ বালি ও এক ভাগ মাটি ব্যবহারের কথা, সেখানে পুরোপুরি মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন বলেন, “২ নম্বর ইট ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বালি-সিমেন্টের মিশ্রণেও অনিয়ম রয়েছে। আমরা চাই সিডিউল অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন হোক।”

Collected

তবে নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি মোমিনুল হোসেন বলেন, “২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে—এটি সত্য। তবে আমরা শ্রমিক, মালিকপক্ষ যেভাবে উপকরণ দেয়, সেভাবেই কাজ করি।”

এদিকে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা কাজের স্থলে গেলে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা শুভ সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে শুভ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি তাকে মারধর করি।”

অন্যদিকে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেন বলেন, “কাজে কোনো অনিয়ম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। এভাবে মারধর করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস”-এর স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তারা সরকারি নিয়মনীতি মেনেই কাজ করছেন। তার অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি পূর্বে চাঁদা দাবি করেছিল, তা না পেয়ে এখন বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কাজের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সঠিক তদন্ত করে প্রকল্পের কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, উত্তেজনা ও মারধর

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, উত্তেজনা ও মারধর

নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ, চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ ঠিকাদারের

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরোধ এবং একপর্যায়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বোর্ড ফলক সূত্রে জানা যায়, “উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়, ১ম সংশোধিত)” এর আওতায় স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর কাজের আদেশ দেওয়া হয় এবং ১২ মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৭ টাকা ব্যয়ে সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস”।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ভরাট কাজে বালির পরিবর্তে পুকুরের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ডের পরিপন্থী। তাদের দাবি, যেখানে তিন ভাগ বালি ও এক ভাগ মাটি ব্যবহারের কথা, সেখানে পুরোপুরি মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন বলেন, “২ নম্বর ইট ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বালি-সিমেন্টের মিশ্রণেও অনিয়ম রয়েছে। আমরা চাই সিডিউল অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন হোক।”

Collected

তবে নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি মোমিনুল হোসেন বলেন, “২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে—এটি সত্য। তবে আমরা শ্রমিক, মালিকপক্ষ যেভাবে উপকরণ দেয়, সেভাবেই কাজ করি।”

এদিকে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা কাজের স্থলে গেলে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা শুভ সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে শুভ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি তাকে মারধর করি।”

অন্যদিকে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেন বলেন, “কাজে কোনো অনিয়ম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। এভাবে মারধর করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস”-এর স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তারা সরকারি নিয়মনীতি মেনেই কাজ করছেন। তার অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি পূর্বে চাঁদা দাবি করেছিল, তা না পেয়ে এখন বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কাজের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সঠিক তদন্ত করে প্রকল্পের কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।