ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ আহত ৭ পঞ্চগড়ে অবকাঠামো উন্নয়নে মাঠে এমপি নওশাদ জমির সাপাহারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের কারাদণ্ড লালপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, মামলা দায়ের গোদাগাড়ীতে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড তেঁতুলিয়ায় গৃহবধূকে পি/টি/য়ে হ’ত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার প্রেমিকাকে ফিরে পেতে ৪৬০ ফুট টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা, যুবককে উদ্ধার ঝিনাইগাতীতে ‘মবের শিকার’ এসিল্যান্ড অফিসের ড্রাইভার, অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সে দোতলা ভবন ভাঙার চেষ্টা, ক্ষোভ লালপুরে চুরি হওয়া ছাগল উদ্ধার, চোরচক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

ছেলের লাশ দেখে শেষ বিদায়—রাজশাহী কারাগারে মানবিকতার দৃষ্টান্ত

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ১১৫ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছেলের লাশ দেখে শেষ বিদায়—রাজশাহী কারাগারে মানবিকতার দৃষ্টান্ত

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে সন্তানের শেষ মুখ দেখার সুযোগ দিল কারা কর্তৃপক্ষ

মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের মধ্যেও এক বন্দি বাবাকে তার মৃত সন্তানের শেষ মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩ মে) এ আবেগঘন ঘটনা ঘটে কারাগার প্রাঙ্গণে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল, যিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন, তার ছেলে আব্দুল্লাহ গত শনিবার (২ মে) একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কারাগারে থাকা বাবা দুলালও ভেঙে পড়েন।

এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের শেষবারের মতো মুখ দেখার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর-এর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ। সেখানে নিরাপত্তা বিধি মেনে বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

কারাগারের গেটে সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছেলের নিথর দেহ দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের জীবনেও যে আবেগ ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে, এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরাধের শাস্তি ভোগ করলেও একজন মানুষ তার পারিবারিক অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ায়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছেলের লাশ দেখে শেষ বিদায়—রাজশাহী কারাগারে মানবিকতার দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ছেলের লাশ দেখে শেষ বিদায়—রাজশাহী কারাগারে মানবিকতার দৃষ্টান্ত

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে সন্তানের শেষ মুখ দেখার সুযোগ দিল কারা কর্তৃপক্ষ

মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের মধ্যেও এক বন্দি বাবাকে তার মৃত সন্তানের শেষ মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩ মে) এ আবেগঘন ঘটনা ঘটে কারাগার প্রাঙ্গণে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল, যিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন, তার ছেলে আব্দুল্লাহ গত শনিবার (২ মে) একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কারাগারে থাকা বাবা দুলালও ভেঙে পড়েন।

এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের শেষবারের মতো মুখ দেখার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর-এর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ। সেখানে নিরাপত্তা বিধি মেনে বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

কারাগারের গেটে সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছেলের নিথর দেহ দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের জীবনেও যে আবেগ ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে, এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরাধের শাস্তি ভোগ করলেও একজন মানুষ তার পারিবারিক অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ায়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।