ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহী অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষকরা মান্দায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তা বিতরণ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট: পঞ্চগড়ে যুবক আটক পঞ্চগড়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ: চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ৪ ইঞ্চি জমি নিয়ে বিরোধ: গুরুদাসপুরে হামলার শিকার বাবলুর মৃত্যু রাণীশংকৈলে গ্যাস সিলিন্ডার বি’স্ফোরণে গৃহবধূর মৃ’ত্যু দাওকান্দি কলেজে সং/ঘ/র্ষ, অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শ্রীবরদী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিক সামগ্রী আটক

রাজশাহী অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষকরা

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষকরা

তীব্র গরম, জ্বালানি সংকট ও দাম পতনে কৃষকের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে হিমশিম

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে শুরুতেই শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পাকা ধান জমিতে থাকলেও শ্রমিক না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে কৃষকের সোনালি ফসল ঘরে তোলার কাজ।

কৃষকরা জানান, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বহিরাগত শ্রমিকরা আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে মাঠে পাকা ধান থাকলেও তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী জেলায় আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে এসব অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারণ করেছে।

কিন্তু বৈশাখের তীব্র তাপদাহ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে, যা কাটতে শ্রমিকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষক শাকির উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন ধরে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের দাম কম হওয়ায় কেউ আসতে চাচ্ছে না। অন্যদিকে পরিবহন সংকটের কারণে কাটা ধানও বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না।

আরেক কৃষক সাহেব আলী জানান, এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। অনেক জমির ধান মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

তালন্দ এলাকার কৃষকরা জানান, ধানের বাজারদর প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে কৃষকরা লোকসানে পড়ছেন।

শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি রোগবালাই ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে জানান কৃষকরা। অনেক ক্ষেতেই ব্লাস্ট ও পাতাপোড়া রোগে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ধান কাটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বাইরে থেকে শ্রমিক আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষকরা

তীব্র গরম, জ্বালানি সংকট ও দাম পতনে কৃষকের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে হিমশিম

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে শুরুতেই শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পাকা ধান জমিতে থাকলেও শ্রমিক না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে কৃষকের সোনালি ফসল ঘরে তোলার কাজ।

কৃষকরা জানান, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বহিরাগত শ্রমিকরা আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে মাঠে পাকা ধান থাকলেও তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী জেলায় আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে এসব অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারণ করেছে।

কিন্তু বৈশাখের তীব্র তাপদাহ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে, যা কাটতে শ্রমিকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষক শাকির উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন ধরে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের দাম কম হওয়ায় কেউ আসতে চাচ্ছে না। অন্যদিকে পরিবহন সংকটের কারণে কাটা ধানও বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না।

আরেক কৃষক সাহেব আলী জানান, এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। অনেক জমির ধান মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

তালন্দ এলাকার কৃষকরা জানান, ধানের বাজারদর প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে কৃষকরা লোকসানে পড়ছেন।

শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি রোগবালাই ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে জানান কৃষকরা। অনেক ক্ষেতেই ব্লাস্ট ও পাতাপোড়া রোগে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ধান কাটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বাইরে থেকে শ্রমিক আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।