ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নলডাঙ্গায় এক রাতে ৬ ট্রান্সফরমার চুরি, দুশ্চিন্তায় কৃষক ছেলের লাশ দেখে শেষ বিদায়—রাজশাহী কারাগারে মানবিকতার দৃষ্টান্ত মান্দায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মান্দায় অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহীতে ১,২৬০ বোতল অ্যালকোহলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজশাহীতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার রাজশাহী নগরীতে জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কার কার্যক্রম জোরদার রাজশাহীতে দুই রাতে ৬৫ গভীর নলকূপের মিটার-ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি ১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন বন্যা খাতুনের ৫০০ টাকার বিরোধে বৃদ্ধা খুন, যুবক গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে দুই রাতে ৬৫ গভীর নলকূপের মিটার-ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে দুই রাতে ৬৫ গভীর নলকূপের মিটার-ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি

চুরি শেষে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে বিকাশে টাকা দাবি—সেচ বন্ধ হয়ে বিপাকে কৃষক, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাত্র দুই রাতের ব্যবধানে ৬৫টি গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির পর ঘটনাস্থলে সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে ভুক্তভোগী কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল ও ১ মে দিবাগত রাতে উপজেলার গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা প্রতিটি ঘটনাস্থলে একটি করে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি মিটারের জন্য ৭ হাজার টাকা এবং ট্রান্সফরমারের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। নির্ধারিত টাকা দেওয়ার পর খড়ের পালা বা ঝোপঝাড় থেকে চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শালজোড় গ্রামের সাইদুর রহমান, তেলিপুকুর এলাকার আসাদুল ইসলাম ও গনিপুরের বজলুর রশিদ জানান, তারা টাকা দেওয়ার পর চোরদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মিটার ফিরে পেয়েছেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কাসেম ও ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ চুরির সঙ্গে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

বাগমারা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম বলেন, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় গ্রাহকদের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, চোরদের দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে, তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লোক। তবে এ ঘটনায় স্থানীয় কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে দুই রাতে ৬৫ গভীর নলকূপের মিটার-ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

রাজশাহীতে দুই রাতে ৬৫ গভীর নলকূপের মিটার-ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি

চুরি শেষে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে বিকাশে টাকা দাবি—সেচ বন্ধ হয়ে বিপাকে কৃষক, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাত্র দুই রাতের ব্যবধানে ৬৫টি গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির পর ঘটনাস্থলে সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে ভুক্তভোগী কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল ও ১ মে দিবাগত রাতে উপজেলার গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা প্রতিটি ঘটনাস্থলে একটি করে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি মিটারের জন্য ৭ হাজার টাকা এবং ট্রান্সফরমারের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। নির্ধারিত টাকা দেওয়ার পর খড়ের পালা বা ঝোপঝাড় থেকে চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শালজোড় গ্রামের সাইদুর রহমান, তেলিপুকুর এলাকার আসাদুল ইসলাম ও গনিপুরের বজলুর রশিদ জানান, তারা টাকা দেওয়ার পর চোরদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মিটার ফিরে পেয়েছেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কাসেম ও ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ চুরির সঙ্গে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

বাগমারা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম বলেন, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় গ্রাহকদের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, চোরদের দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে, তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লোক। তবে এ ঘটনায় স্থানীয় কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।