ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

৫০০ টাকার বিরোধে বৃদ্ধা খুন, যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৫০০ টাকার বিরোধে বৃদ্ধা খুন, যুবক গ্রেপ্তার

প্রেমিকাকে নিয়ে সময় কাটানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব—পিবিআইর তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ময়মনসিংহে মাত্র ৫০০ টাকার বিরোধে নূরজাহান (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় মো. রনি মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার (৩ মে) দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে একা বসবাসরত নূরজাহানকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার রনি মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রনি মাঝেমধ্যে তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে অবস্থান করতেন এবং এর জন্য ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। তবে সর্বশেষ তিনি ভাড়া না দিয়ে চলে যান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার রাতে রনি আবার প্রেমিকাকে নিয়ে সেখানে যেতে চাইলে পূর্বের পাওনা ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে বলেন নূরজাহান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি তাকে হুমকি দেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে নূরজাহানকে হত্যা করেন।

হত্যার পর মরদেহ রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে ৩০ জানুয়ারি রাতে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নুরুন নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই তদন্ত শুরু করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা অমিতাভ দাসের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে আদালতে হাজির করা হলে রনি মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৫০০ টাকার বিরোধে বৃদ্ধা খুন, যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

৫০০ টাকার বিরোধে বৃদ্ধা খুন, যুবক গ্রেপ্তার

প্রেমিকাকে নিয়ে সময় কাটানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব—পিবিআইর তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ময়মনসিংহে মাত্র ৫০০ টাকার বিরোধে নূরজাহান (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় মো. রনি মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার (৩ মে) দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে একা বসবাসরত নূরজাহানকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার রনি মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রনি মাঝেমধ্যে তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে অবস্থান করতেন এবং এর জন্য ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। তবে সর্বশেষ তিনি ভাড়া না দিয়ে চলে যান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার রাতে রনি আবার প্রেমিকাকে নিয়ে সেখানে যেতে চাইলে পূর্বের পাওনা ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে বলেন নূরজাহান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি তাকে হুমকি দেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে নূরজাহানকে হত্যা করেন।

হত্যার পর মরদেহ রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে ৩০ জানুয়ারি রাতে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নুরুন নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই তদন্ত শুরু করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা অমিতাভ দাসের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে আদালতে হাজির করা হলে রনি মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”