ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝিনাইগাতীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তা উন্মুক্তের দাবিতে মানববন্ধন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনায় রাঙামাটিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দুর্গাপুরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জানালার থাইগ্লাস কেটে দুর্ধর্ষ চুরি রাজশাহী মেডিকেলে এক শিশুর হামের পরই ধরা পড়ল ডেঙ্গু, আইসিইউতে ভর্তি সিংড়ায় ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন মামাতো ফুপাতো ভাই নিহত বাগাতিপাড়ায় চোর ধরতে গিয়ে চোরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত “শফি” খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে উঠবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দক্ষ নতুন প্রজন্ম- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বিয়ানীবাজারে যুবকের হাত বাঁ//ধা ঝু-ল-ন্ত লা/শ উদ্ধার, হ//ত্যার অভিযোগ পরিবারের ঠাকুরগাঁওয়ে মা’দকাস’ক্ত স্বামীর নি”র্যা”ত”নে অন্তঃস’ত্ত্বা গৃহবধূর মৃ//ত্যু/র অভিযোগ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংকটে জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে- সংসদের হুইপ দুলু

রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২ ২১১ বার পড়া হয়েছে

বৃষ্টির অভাবে মাঠেই শুকাচ্ছে পাট গাছ

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ!

এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ! রাজশাহীতে চলতি বছর পাটের বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে পাট গাছ। একাধিকবার সেচ দিয়েও খেত বাঁচাতে পারছেন না চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণে বর্ষার পুরো মৌসুম হলেও এ বছর এখনো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। মাঠঘাটসহ চারদিক শুকিয়ে গেছে। ফলে খরায় পাটগাছের পাতা শুকিয়ে কুচকে যাচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৮ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর ১৮ হাজার ১৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরকালিদাসখালী গ্রামের বর্গাচাষি আশরাফুল হক তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু অনাবৃষ্টি আর প্রচণ্ড খরতাপের কারণে তার জমির পাটগাছ খর্বাকৃতির হয়ে আছে। গরমে তাঁর জমির বেশির ভাগ পাটগাছ পুড়ে মরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জমি বর্গা নিয়ে পাট চাষ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩১১ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বছর বৃষ্টির মৌসুম পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি হয়েছে খুবই কম। শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ দৈনিক বৃষ্টিপাতের হিসাব রাখেন। তার হিসাবমতে, রাজশাহীতে ২০২০ সালের আষাঢ় মাসে ২১ দিন, ২০২১ সালে ১৯ দিন আর এবারের আষাঢ়ে মাত্র ১১ দিন বৃষ্টি হয়েছে। তাও পরিমাণে কম। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাটচাষিরা।

রোববার (১৭ জুলাই) রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দেখা গেছে, পাটগাছগুলো শুকিয়ে মরে যেতে লেগেছে। এরই মধ্যে যেসব জমিতে বেলে মাটির পরিমাণ বেশি সেসব খেতের পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, পাট কাটা শুরু হয়েছে। ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খালবিল, ডোবা, নালায় পানি জমেনি। ফলে পাট কেটে জাগ দেওয়া নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওনা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

কৃষকেরা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে আকাশে মেঘ জমছে। এরপর কয়েক ফোটা বৃষ্টি পড়ে মেঘ সরে যাচ্ছে। তাছাড়া এখন চৈত্র মাসের মতো রোদ ও গরম পড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় একদিকে যেমন মাঠে পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমনের বীজতলা তৈরি হলেও বৃষ্টির অভাবে চারা খেতে রোপণ করা যাচ্ছে না।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খরার কারণে পাটে ‘মাইট’ নামের এক ধরনের পোকার উপদ্রব হয়েছে। এখন পাটের জন্য জোরে বৃষ্টি দরকার। এ ছাড়া খরার কারণেও এবার পাট বড়তে পারেনি। যাঁদের জমিতে পাট ভালো আছে, তারাও জাগ দেওয়ার পানি নিয়ে সংকটে পড়বেন। সেচের পানিতে পাট জাগ দিতে চাষিদের অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ!

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২

রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ!

এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ! রাজশাহীতে চলতি বছর পাটের বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে পাট গাছ। একাধিকবার সেচ দিয়েও খেত বাঁচাতে পারছেন না চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণে বর্ষার পুরো মৌসুম হলেও এ বছর এখনো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। মাঠঘাটসহ চারদিক শুকিয়ে গেছে। ফলে খরায় পাটগাছের পাতা শুকিয়ে কুচকে যাচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৮ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর ১৮ হাজার ১৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরকালিদাসখালী গ্রামের বর্গাচাষি আশরাফুল হক তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু অনাবৃষ্টি আর প্রচণ্ড খরতাপের কারণে তার জমির পাটগাছ খর্বাকৃতির হয়ে আছে। গরমে তাঁর জমির বেশির ভাগ পাটগাছ পুড়ে মরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জমি বর্গা নিয়ে পাট চাষ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩১১ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বছর বৃষ্টির মৌসুম পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি হয়েছে খুবই কম। শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ দৈনিক বৃষ্টিপাতের হিসাব রাখেন। তার হিসাবমতে, রাজশাহীতে ২০২০ সালের আষাঢ় মাসে ২১ দিন, ২০২১ সালে ১৯ দিন আর এবারের আষাঢ়ে মাত্র ১১ দিন বৃষ্টি হয়েছে। তাও পরিমাণে কম। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাটচাষিরা।

রোববার (১৭ জুলাই) রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দেখা গেছে, পাটগাছগুলো শুকিয়ে মরে যেতে লেগেছে। এরই মধ্যে যেসব জমিতে বেলে মাটির পরিমাণ বেশি সেসব খেতের পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, পাট কাটা শুরু হয়েছে। ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খালবিল, ডোবা, নালায় পানি জমেনি। ফলে পাট কেটে জাগ দেওয়া নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওনা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

কৃষকেরা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে আকাশে মেঘ জমছে। এরপর কয়েক ফোটা বৃষ্টি পড়ে মেঘ সরে যাচ্ছে। তাছাড়া এখন চৈত্র মাসের মতো রোদ ও গরম পড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় একদিকে যেমন মাঠে পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমনের বীজতলা তৈরি হলেও বৃষ্টির অভাবে চারা খেতে রোপণ করা যাচ্ছে না।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খরার কারণে পাটে ‘মাইট’ নামের এক ধরনের পোকার উপদ্রব হয়েছে। এখন পাটের জন্য জোরে বৃষ্টি দরকার। এ ছাড়া খরার কারণেও এবার পাট বড়তে পারেনি। যাঁদের জমিতে পাট ভালো আছে, তারাও জাগ দেওয়ার পানি নিয়ে সংকটে পড়বেন। সেচের পানিতে পাট জাগ দিতে চাষিদের অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যাবে।