রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ!
এম এম মামুন, নিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট গাছ! রাজশাহীতে চলতি বছর পাটের বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে পাট গাছ। একাধিকবার সেচ দিয়েও খেত বাঁচাতে পারছেন না চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণে বর্ষার পুরো মৌসুম হলেও এ বছর এখনো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। মাঠঘাটসহ চারদিক শুকিয়ে গেছে। ফলে খরায় পাটগাছের পাতা শুকিয়ে কুচকে যাচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৮ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর ১৮ হাজার ১৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরকালিদাসখালী গ্রামের বর্গাচাষি আশরাফুল হক তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু অনাবৃষ্টি আর প্রচণ্ড খরতাপের কারণে তার জমির পাটগাছ খর্বাকৃতির হয়ে আছে। গরমে তাঁর জমির বেশির ভাগ পাটগাছ পুড়ে মরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জমি বর্গা নিয়ে পাট চাষ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩১১ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বছর বৃষ্টির মৌসুম পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি হয়েছে খুবই কম। শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ দৈনিক বৃষ্টিপাতের হিসাব রাখেন। তার হিসাবমতে, রাজশাহীতে ২০২০ সালের আষাঢ় মাসে ২১ দিন, ২০২১ সালে ১৯ দিন আর এবারের আষাঢ়ে মাত্র ১১ দিন বৃষ্টি হয়েছে। তাও পরিমাণে কম। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাটচাষিরা।
রোববার (১৭ জুলাই) রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দেখা গেছে, পাটগাছগুলো শুকিয়ে মরে যেতে লেগেছে। এরই মধ্যে যেসব জমিতে বেলে মাটির পরিমাণ বেশি সেসব খেতের পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, পাট কাটা শুরু হয়েছে। ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খালবিল, ডোবা, নালায় পানি জমেনি। ফলে পাট কেটে জাগ দেওয়া নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওনা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
কৃষকেরা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে আকাশে মেঘ জমছে। এরপর কয়েক ফোটা বৃষ্টি পড়ে মেঘ সরে যাচ্ছে। তাছাড়া এখন চৈত্র মাসের মতো রোদ ও গরম পড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় একদিকে যেমন মাঠে পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আমনের বীজতলা তৈরি হলেও বৃষ্টির অভাবে চারা খেতে রোপণ করা যাচ্ছে না।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খরার কারণে পাটে ‘মাইট’ নামের এক ধরনের পোকার উপদ্রব হয়েছে। এখন পাটের জন্য জোরে বৃষ্টি দরকার। এ ছাড়া খরার কারণেও এবার পাট বড়তে পারেনি। যাঁদের জমিতে পাট ভালো আছে, তারাও জাগ দেওয়ার পানি নিয়ে সংকটে পড়বেন। সেচের পানিতে পাট জাগ দিতে চাষিদের অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যাবে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.