প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১১:২৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতি দূর, খাতা পুনর্মূল্যায়ন এবং সঠিক ফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক ড. আজিবর রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফলের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেন, “আমি ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে আমি বৃত্তি পাব বলে আশা করি।”
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- ফলাফলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, প্রয়োজন হলে খাতা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ফল প্রকাশ ব্যবস্থা চালু করা, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী শহরের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৮ শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি। এসব শিক্ষার্থী রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিল। ওই কেন্দ্রের একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ায় ফলাফল প্রস্তুতে কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটি হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ওই কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিলেও একজন শিক্ষার্থীরও নাম বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, এবার আমাদের অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিভাবকদের দেওয়া আবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এতগুলো খাতা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















