ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু গুরুতর আহত রুহির চিকিৎসায় ইউএনও কার্যালয়ের সহায়তা, এগিয়ে আসার আহ্বান পঞ্চগড়ে ট্রাকচাপায় আইনজীবীর মৃত্যু পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি বিশ্বকাপে না যাওয়া ‘মারাত্মক ভুল’-সাকিব আল হাসান বাউয়েটে অর্থ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, সংশোধিত বাজেট অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সিংড়ায় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১২ সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত তিন দশকেও জলাবদ্ধতা কাটেনি চট্টগ্রামে, সংসদে দুঃখ প্রকাশ ও সমাধানের আশ্বাস ১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা স্থগিত, নতুন করে যাচাই-বাছাই

বাঘা থানায় তিন ভাগের দুই ভাগ মামলাই মাদকের!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০২৩ ২১৭ বার পড়া হয়েছে

বাঘায় মাদক মামলা বেশি

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাঘা থানায় তিন ভাগের দুই ভাগ মামলাই মাদকের!

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
বাঘা থানায় তিন ভাগের দুই ভাগ মামলাই মাদকের! রাজশাহীর বাঘা সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। বহুকাল থেকে এ অঞ্চলে চলে আসছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। অনেকেই বাঘাকে মাদকের রাজধানী বলে অখ্যায়িত করে থাকেন। এখানে ১০-১২ টি গ্রাম মিলে প্রায় তিন শতাধিক মাদক চোরাকারবারী রয়েছে। তবে থানায় তালিকা রয়েছে ১৮০ জনের। আগত ঈদকে সামনে রেখে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে এর মৌজুদ ও প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। যা অকপটে স্বীকার করেছে থানা পুলিশ। তারা জানিয়েছেন, এখানে প্রতিমাসে যে সকল মামলা রেকর্ড করা হয়, তার তিন ভাগের দুই ভাগই মাদক মামলা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে , ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক চোরাচালান। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতিদিন অনায়াসে চলে আসছে মরণ নেশা হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হিরোইন ও গাঁজা সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। যা পারা-পারের জন্য রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেট। এদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩ শতাধিক। এর মধ্যে থানায় তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে চিহৃত- মীরগঞ্জের শামিম হোসেন, বুলবুল মোল্লা, রুবেল মোল্লা, ভানুকর গ্রামের শিমুল ও মনির, আলাইপুরের মনিরুজ্জামান, আব্দুল বারী, গাজি, বানেজ, গোলাম মোস্তফা, চপল, সিদ্দিক হোসেন ও ঝুন্টু ,গোকুলপুরের পাকুড়িয়ার শহিদুল ও শরিফুল, আড়ানীর সেলিম, মহদীপুরের রিয়াল, চকছাতারী গ্রামের সুলতানের মেয়ে সিমা এবং বাঘার রবি ভান্ডারী ও তার ছেলে রাব্বী হোসেন-সহ ১৮০ জন। এরমধ্যে লোকজনের কাছে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছে রবি ভান্ডরি এবং তার ছেলে রাব্বি হাসান।

বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন জানান, ঈদকে সামনে রেখে এখন সীমান্ত এলাকায় গেলে দেখা মিলবে দামি-দামি মোটার সাইকেল ও প্রাইভেট কার-সহ বহিরাগত যুবকদের উপস্থিতি। এ অঞ্চলে যারা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় লোকজন তাদের একেক জনকে একেক নামে ডাকে। এদের মধ্যে রবি ভান্ডারী নামে একজন পিতাকে ডাকা হচ্ছে গাঁজার ডিলার এবং ছেলেকে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা সম্রাট। এই দু’জনের নামে থানায় রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তারা কখনো-কখনো জেল হাজত খাটলেও এখন বাড়িতে অবস্থান করছে এবং চালিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবার।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে, রবি ভান্ডরির কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, অত্র অঞ্চলে যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদের মধ্যে এখন পিতা-পুত্রের ব্যবসা বেশ জোরে-সোরে চলছে। এদের বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলে বোঝা যাবে তাদের ব্যবসায়ীক কৌশল এবং চোখে পড়বে প্রশাসনের চোক ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা লোকজন আরো জানান, এরা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। মাঝে মধ্যে এদের বাড়িতে বহিরাগত কিছু মানুষকে দেখা যাই। অত:পর পরিচয় জানতে চাইলে আত্মীয় বলে চালিয়ে দেন।

বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক অফিসার ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর তদন্ত) আব্দুল করিম জানান, রবি ভান্ডরি এবং তার ছেলে রাব্বি হাসানের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এদের খুটির জোর এতো বেশি যে, মাদক সহ আটক করে জেল-হাজতে পাঠালেও ক’দিন না যেতে ফের হাজত থেকে বেরিয়ে এসে পূর্বের ন্যায় মাদক ব্যবসা শুরু করে। এ ছাড়াও তারা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে ব্যবসা করে। ওসি আরো বলেন, এ থানায় প্রতিমাসে যে পরিমান মামলা হয় ,তার তিন ভাগের দুই ভাগই মাদক মামলা। তার মতে, এটি প্রতিরোধ করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে হবে। একই সাথে বাঘা সীমান্তে অবস্থিত দু’টি বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ক্যাম্পের সদস্যদের আরো সক্রীয় হতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঘা থানায় তিন ভাগের দুই ভাগ মামলাই মাদকের!

আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ এপ্রিল ২০২৩

বাঘা থানায় তিন ভাগের দুই ভাগ মামলাই মাদকের!

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
বাঘা থানায় তিন ভাগের দুই ভাগ মামলাই মাদকের! রাজশাহীর বাঘা সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। বহুকাল থেকে এ অঞ্চলে চলে আসছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। অনেকেই বাঘাকে মাদকের রাজধানী বলে অখ্যায়িত করে থাকেন। এখানে ১০-১২ টি গ্রাম মিলে প্রায় তিন শতাধিক মাদক চোরাকারবারী রয়েছে। তবে থানায় তালিকা রয়েছে ১৮০ জনের। আগত ঈদকে সামনে রেখে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে এর মৌজুদ ও প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। যা অকপটে স্বীকার করেছে থানা পুলিশ। তারা জানিয়েছেন, এখানে প্রতিমাসে যে সকল মামলা রেকর্ড করা হয়, তার তিন ভাগের দুই ভাগই মাদক মামলা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে , ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক চোরাচালান। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতিদিন অনায়াসে চলে আসছে মরণ নেশা হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হিরোইন ও গাঁজা সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। যা পারা-পারের জন্য রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেট। এদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩ শতাধিক। এর মধ্যে থানায় তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে চিহৃত- মীরগঞ্জের শামিম হোসেন, বুলবুল মোল্লা, রুবেল মোল্লা, ভানুকর গ্রামের শিমুল ও মনির, আলাইপুরের মনিরুজ্জামান, আব্দুল বারী, গাজি, বানেজ, গোলাম মোস্তফা, চপল, সিদ্দিক হোসেন ও ঝুন্টু ,গোকুলপুরের পাকুড়িয়ার শহিদুল ও শরিফুল, আড়ানীর সেলিম, মহদীপুরের রিয়াল, চকছাতারী গ্রামের সুলতানের মেয়ে সিমা এবং বাঘার রবি ভান্ডারী ও তার ছেলে রাব্বী হোসেন-সহ ১৮০ জন। এরমধ্যে লোকজনের কাছে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছে রবি ভান্ডরি এবং তার ছেলে রাব্বি হাসান।

বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন জানান, ঈদকে সামনে রেখে এখন সীমান্ত এলাকায় গেলে দেখা মিলবে দামি-দামি মোটার সাইকেল ও প্রাইভেট কার-সহ বহিরাগত যুবকদের উপস্থিতি। এ অঞ্চলে যারা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় লোকজন তাদের একেক জনকে একেক নামে ডাকে। এদের মধ্যে রবি ভান্ডারী নামে একজন পিতাকে ডাকা হচ্ছে গাঁজার ডিলার এবং ছেলেকে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা সম্রাট। এই দু’জনের নামে থানায় রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তারা কখনো-কখনো জেল হাজত খাটলেও এখন বাড়িতে অবস্থান করছে এবং চালিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবার।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে, রবি ভান্ডরির কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, অত্র অঞ্চলে যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদের মধ্যে এখন পিতা-পুত্রের ব্যবসা বেশ জোরে-সোরে চলছে। এদের বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলে বোঝা যাবে তাদের ব্যবসায়ীক কৌশল এবং চোখে পড়বে প্রশাসনের চোক ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা লোকজন আরো জানান, এরা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। মাঝে মধ্যে এদের বাড়িতে বহিরাগত কিছু মানুষকে দেখা যাই। অত:পর পরিচয় জানতে চাইলে আত্মীয় বলে চালিয়ে দেন।

বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক অফিসার ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর তদন্ত) আব্দুল করিম জানান, রবি ভান্ডরি এবং তার ছেলে রাব্বি হাসানের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এদের খুটির জোর এতো বেশি যে, মাদক সহ আটক করে জেল-হাজতে পাঠালেও ক’দিন না যেতে ফের হাজত থেকে বেরিয়ে এসে পূর্বের ন্যায় মাদক ব্যবসা শুরু করে। এ ছাড়াও তারা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে ব্যবসা করে। ওসি আরো বলেন, এ থানায় প্রতিমাসে যে পরিমান মামলা হয় ,তার তিন ভাগের দুই ভাগই মাদক মামলা। তার মতে, এটি প্রতিরোধ করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে হবে। একই সাথে বাঘা সীমান্তে অবস্থিত দু’টি বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ক্যাম্পের সদস্যদের আরো সক্রীয় হতে হবে।