তিন দশকেও জলাবদ্ধতা কাটেনি চট্টগ্রামে, সংসদে দুঃখ প্রকাশ ও সমাধানের আশ্বাস
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

তিন দশকেও জলাবদ্ধতা কাটেনি চট্টগ্রামে, সংসদে দুঃখ প্রকাশ ও সমাধানের আশ্বাস
অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরী, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা; পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘ তিন দশকেও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। অল্প বৃষ্টি হলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বারবার প্রতিশ্রুতি ও নানা প্রকল্পের ঘোষণা সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে নোটিশ উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ দুর্ভোগে পড়ছে। সমস্যাটি বড় পরিসরের হওয়ায় সমাধানে সময় লাগবে, তবে সরকার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে আবারও চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, নিউমার্কেট, তিনপুলের মোড়, আগ্রাবাদ ও হালিশহরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।

জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনের ময়লা পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, বাড়ছে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-নালা দখল, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা, পাহাড় কেটে ফেলার ফলে পলি জমে নাব্যতা হ্রাস এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাই জলাবদ্ধতার মূল কারণ।
সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাল খনন, বর্জ্য অপসারণ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ—গত তিন দশকে বহু প্রকল্প ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর ফলাফল এখনও দৃশ্যমান নয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে এবং এবার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পানি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, টানা বৃষ্টি ও খাল খননের কাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে সমস্যা বেড়েছে। নগরবাসীকে ড্রেন ও নালায় ময়লা না ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনো না হওয়ায় নগরবাসী কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন।



















