বাগাতিপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার- রহস্য আত্মহত্যা নাকি হত্যা?
- আপডেট সময় : ০২:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ৮০৪ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার- রহস্য আত্মহত্যা নাকি হত্যা?
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে হাসান মাহমুদ নিরব (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার তেনাচুরা কামারহাটি (আব্দুলপুর) এলাকায় তার শ্বশুর তৈয়ব আলীর বাড়িতে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে – এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
নিরব বাগাতিপাড়া উপজেলার খাটখৈইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম ও রুবিনা বেগম দম্পতির ছেলে। কয়েক মাস আগে তিনি পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার তেনাচুরা কামারহাটি এলাকার মীম আক্তার (১৮)-কে বিবাহ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় নিরবের শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা এলাকার বাইরে দাওয়াতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন শুধু নিরব ও তার স্ত্রী মীম।
স্ত্রী বাড়ির বাইরে কাজ করছিলেন, আর নিরব ছিলেন ঘরের ভেতরে। কিছুক্ষণ পর মীম ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, নিরব ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন।
পরে তাকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসমাইল হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে কোনো নেশা করে না, খারাপ সঙ্গেও মেশে না। সকালে কলেজে গিয়েছিল, দুপুরে বাসায় ফিরে শ্বশুরবাড়িতে যায়। বিকেলে হঠাৎ খবর পাই সে নাকি আত্মহত্যা করেছে – এটা বিশ্বাস করার মতো নয়। আমার ছেলেকে মেরে ফেলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি আইনের মাধ্যমে এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে নিরবের শাশুড়ি বলেন, “আমার আত্মীয় অসুস্থ থাকায় আমরা সবাই আড়ানী গিয়েছিলাম। পরে খবর পাই নিরব আত্মহত্যা করেছে। কী কারণে করেছে আমরা জানি না। আমার মেয়ে মীম এখন শোকাহত, কিছুই বলতে পারছে না।”
বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।




















