রাজশাহীতে অ/স্ত্রসহ আটক কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরু/দ্ধ
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে অ/স্ত্রসহ আটক কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরু/দ্ধ
জনতার বাধা, অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ধারালো অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়াসহ এক কিশোরকে আটক করে স্থানীয় জনতা। তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক কিশোর রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট এলাকার বাসিন্দা। তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, রাতে বিনোদপুর মরাকুড়ি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ১০-১২ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায়। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় এক কিশোরকে আটক করা হয়।
পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ডি এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদাপোশাকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং লাঠিপেটা ও অশালীন আচরণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন এবং পুলিশের গতিরোধ করেন। পরে পুলিশ নিজেদের পরিচয় দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আটক কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন ও রেজাউল করিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে ওঠে। সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, ভাড়াটে লোকজন এনে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রেজাউল করিম দাবি করেন, বাড়িটি তার এবং সাদ্দাম অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন।
স্থানীয় শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, “অস্ত্রসহ আটক কিশোরকে নিয়ে যেতে পুলিশকে বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের আচরণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ডি এম জহুরুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” তিনি আরও জানান, তড়িঘড়ি করে যাওয়ার কারণে সাদাপোশাকে যেতে হয়েছে।



















