বাগাতিপাড়ায় রাজকীয়ভাবে ইমামকে বিদায়!
- আপডেট সময় : ০১:৩৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ৬৯১ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় রাজকীয়ভাবে ইমামকে বিদায়!
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
বাগাতিপাড়ায় ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদে টানা ৪১ বছর ইমামতি করে অবসরে যাওয়ায় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন গ্রামবাসী। শুক্রবার (৩১ মে) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রমালঞ্চি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মওলানা মোঃ মুনসুর রহমান কে ব্যতিক্রমী এই বিদায় দেওয়া হয়। ইমামের আনুষ্ঠানিক এই বিদায় উপলক্ষে জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদের মধ্যেই এক স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এসময় মসজিদ কমিটির সভাপতি আরশেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং মুসল্লী আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন, মোসলেম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম চান্দু, আসমত আলী, আলাউদ্দিন, ইউপি সদস্য সেলিম রেজা, আব্দুল আজিজ এবং পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল কুদ্দুস। এ সময় বক্তারা বলেন, ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্ষিদ্রমালঞ্চি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ১৯৮৩ সাল থেকে ইমামতি করে আসছিলেন ৭২ বছরের মওলানা মোঃ মুনসুর রহমান। বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে তিনি ইমামতি থেকে নিজ ইচ্ছায় অবসর নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন। যা তারা মেনে নিতে পারছেন না। নামাজ শেখাসহ সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে এই ইমামের কাছে থেকে সমাধান নেওয়া হতো। ইমাম মুনসুর রহমান অনেক ভালো মানুষ। তিনি তাদের এলাকার জন্য একজন অনুসরণীয় ব্যক্তি।
বক্তারা আরও বলেন, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইমামকে দেওয়া হয় নগদ ৬২ হাজার ৭০০ টাকাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। পরে তাঁকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় এলাকার মুরব্বিসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে করে শতাধিক মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে ইমামের নিজ বাড়ি একই ইউনিয়নের শ্রীরামপুরে পৌঁছে দিয়ে আসেন।

বিদায়ী ইমামের ছোট জামাই শামীম রেজা বলেন, শিক্ষা জীবনে তিনি প্রথমে আব্দুল পুর জমি রেজিস্ট্রার অফিসে কয়েকদিন মুহরির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সেখানে ভালো না লাগায় সেটি বাদ দিয়ে তখনই এই মসজিদের ইমামের দায়িত্ব নেন। তাঁর কখনও টাকার প্রতি লোভ ছিলনা। তিনি কখনও বেতন বাড়ানোর কথা নিজে থেকে বলেননি। মসজিদ কমিটি থেকে যা দিয়েছে তিনি তাই নিয়েছেন।
মসজিদের সভাপতি আরশেদ আলী বলেন, তিনি আমাদের দীর্ঘদিনের ইমাম ছিলেন। এই সময়ে তিনি আমাদের এলাকার সকল মানুষের মাঝে মিশে গেছেন। এখন তাঁর বয়স হয়েছে, তাই বিদায় নিতে হচ্ছে। বিদায় বেদনার হলেও এলাকাবাসী তা কষ্টে মেনে নিয়ে তাঁর সম্মানে এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন।
বিদায়ী ইমাম মুনসুর রহমান হাদিস এবং কোরআনের পথে চলার জন্য সকলকে আহবান জানিয়ে এবং তাঁর জন্য দোয়া চেয়ে সকলের নিকট থেকে বিদায় নিয়েছেন।



















