পঞ্চগড়ে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে অবরুদ্ধ
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে অবরুদ্ধ
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদে উত্তেজনা; পুলিশ গিয়ে উদ্ধার, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া এক ইউপি সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। রাতে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অবরুদ্ধ সচিবকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের তহবিল থেকে অর্থ তছরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহণকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল।
এদিন বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকল সদস্যকে নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম। এ সময় প্রশ্নের জেরে সচিব আলিউল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে সচিব চেয়ারম্যানের দিকে মারমুখী হয়ে এগিয়ে গেলে উপস্থিত ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্যানেল চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র রায় জানান, আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে সচিব উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে ওই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিও ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চেয়ারম্যান একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তার সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক অভিযোগ করেন, সচিব যোগদানের পর থেকেই এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থ ব্যয় করছেন এবং সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব এককভাবে বিভিন্ন কেনাকাটা করে অতিরিক্ত বিল দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।




















