ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিংড়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সালিশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ নাটোরে ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের ওপর হামলার অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, ইয়াবাসহ ভ্যানচালক আটক পঞ্চগড়ে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় রংপুরে আটক ২ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গু/লি/তে বিজিবি সদস্য আহত রাজশাহীতে অ/স্ত্রসহ আটক কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরু/দ্ধ রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার পুকুরে বি/ষ, ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ রাজশাহীতে সড়ক দু’র্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃ’ত্যু বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান, আ/ত্ম/হ/ত্যার হু’মকি গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, শিশুসহ আহত ৫

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

ঝকঝকে কাঁচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর পরিচ্ছন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের ঋতু শরৎ এখন প্রায় শেষের পথে। এমন সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম রূপ। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ও মেঘে আকাশ ঢেকে থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই পরিষ্কার আকাশে চোখে পড়ে বরফে ঢাকা তুষার শুভ্র পর্বতশৃঙ্গটি।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত-শীত শুরুর আগে-মেঘমুক্ত আকাশে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা ও হিমালয়ের সৌন্দর্য। এ বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ দৃশ্য চোখে পড়ছে স্থানীয়দের।

সূর্যকিরণের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে যায়। তবে বিকেলে সূর্যের তির্যক আলো পড়লে আবারও অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ওঠে এই মহিমান্বিত পর্বতশৃঙ্গ।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের ৬৪ কিলোমিটার, আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। ফলে মেঘমুক্ত দিনে এখানকার উত্তর-পশ্চিম আকাশে স্পষ্ট দেখা যায় বরফে মোড়ানো সাদা পাহাড়-যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার (২৮,১৬৯ ফুট)। ১৮৫২ সালের আগে একে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে মনে করা হতো। ১৯৫৫ সালের ২৫ মে প্রথম ব্রিটিশ পর্বতারোহী দল জোয়ে ব্রাউন ও জর্জ ব্যান্ড এই শৃঙ্গে আরোহণ করেন।

বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অন্যতম আদর্শ স্থান ভারতের দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল। তবে যারা বিদেশ যেতে পারেন না, তারা বাংলাদেশের পঞ্চগড়েই এই নয়নাভিরাম রূপ উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা স্বপ্নের মতো- প্রথমে কালচে, তারপর টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ হয়ে শেষে শুভ্র সাদা রূপে সেজে ওঠে পর্বতচূড়াটি। এই দৃশ্য দেখতে দূরবীনের প্রয়োজন হয় না, খালি চোখেই দেখা যায় প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য।

স্থানীয়দের ভাষায়, “তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাওয়া মানে সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব উপহার।”
এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান বাংলাবান্ধা ও তেঁতুলিয়ার হিমালয় দর্শন পয়েন্টে। পর্যটকদের জন্য এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে হোটেল, মোটেল ও পিকনিক স্পটও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

ঝকঝকে কাঁচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর পরিচ্ছন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের ঋতু শরৎ এখন প্রায় শেষের পথে। এমন সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম রূপ। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ও মেঘে আকাশ ঢেকে থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই পরিষ্কার আকাশে চোখে পড়ে বরফে ঢাকা তুষার শুভ্র পর্বতশৃঙ্গটি।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত-শীত শুরুর আগে-মেঘমুক্ত আকাশে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা ও হিমালয়ের সৌন্দর্য। এ বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ দৃশ্য চোখে পড়ছে স্থানীয়দের।

সূর্যকিরণের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে যায়। তবে বিকেলে সূর্যের তির্যক আলো পড়লে আবারও অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ওঠে এই মহিমান্বিত পর্বতশৃঙ্গ।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের ৬৪ কিলোমিটার, আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। ফলে মেঘমুক্ত দিনে এখানকার উত্তর-পশ্চিম আকাশে স্পষ্ট দেখা যায় বরফে মোড়ানো সাদা পাহাড়-যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার (২৮,১৬৯ ফুট)। ১৮৫২ সালের আগে একে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে মনে করা হতো। ১৯৫৫ সালের ২৫ মে প্রথম ব্রিটিশ পর্বতারোহী দল জোয়ে ব্রাউন ও জর্জ ব্যান্ড এই শৃঙ্গে আরোহণ করেন।

বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অন্যতম আদর্শ স্থান ভারতের দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল। তবে যারা বিদেশ যেতে পারেন না, তারা বাংলাদেশের পঞ্চগড়েই এই নয়নাভিরাম রূপ উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা স্বপ্নের মতো- প্রথমে কালচে, তারপর টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ হয়ে শেষে শুভ্র সাদা রূপে সেজে ওঠে পর্বতচূড়াটি। এই দৃশ্য দেখতে দূরবীনের প্রয়োজন হয় না, খালি চোখেই দেখা যায় প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য।

স্থানীয়দের ভাষায়, “তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাওয়া মানে সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব উপহার।”
এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান বাংলাবান্ধা ও তেঁতুলিয়ার হিমালয় দর্শন পয়েন্টে। পর্যটকদের জন্য এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে হোটেল, মোটেল ও পিকনিক স্পটও।