ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিংড়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সালিশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ নাটোরে ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের ওপর হামলার অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, ইয়াবাসহ ভ্যানচালক আটক পঞ্চগড়ে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় রংপুরে আটক ২ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গু/লি/তে বিজিবি সদস্য আহত রাজশাহীতে অ/স্ত্রসহ আটক কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরু/দ্ধ রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার পুকুরে বি/ষ, ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ রাজশাহীতে সড়ক দু’র্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃ’ত্যু বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান, আ/ত্ম/হ/ত্যার হু’মকি গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, শিশুসহ আহত ৫

তেঁতুলিয়ায় কৃষি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে যমুনা টিভি প্রতিনিধি লাঞ্ছিত

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তেঁতুলিয়ায় কৃষি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে যমুনা টিভি প্রতিনিধি লাঞ্ছিত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে রনি মিয়াজী নামে এক গণমাধ্যম কর্মীকে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরের কৃষি অফিস সংলগ্ন পাকা সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, রনি মিয়াজী যমুনা টেলিভিশনের পঞ্চগড় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

জানা যায়, গত কিছু দিন আগে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক রনি মিয়াজীসহ কয়েকজন সাংবাদিক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রনি মিয়াজী তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে গেলে এসময় উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী মির্জা শাহরিয়ার রাজীব সাংবাদিক রনি মিয়াজীর মোটর সাইকেল গতিরোধ করেন এবং কৃষি অফিসসহ তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মোটর সাইকেল থেকে সড়কে দাড়ান। এসময় তিনি ওই সাংবাদিক অসামঞ্জস্য কথাবার্তা ও লাঞ্ছিতের করেন।

এদিকে তার কিছুক্ষণ পর কৃষি অফিসের উপ-সহকারী ইলিয়াস ফারুক,মোসাদ্দেকুর রহমান, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব,অফিস সহাকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মশিউর রহমান,পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জীবন ইসলামসহ অন্য উপসহকারীসহ কৃষি অফিসের লোকজন সাংবাদিক রনি মিয়াজীকে ঘিড়ে ফেলেন৷ পরে বিভিন্ন কথাবার্তা, উল্টোপাল্টা প্রশ্ন ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এসময় উপসহকারী ইলিয়াস ফারুক ও মশিউর রহমান মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন এবং কৃষকের দেয়া বক্তব্য ডিলিট করতে আক্রমনাত্মক কর্তবার্তা ও হুমকি দেন উপসহকারী ফারুক। এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক ও লোকজনের উপস্থিতি পেলে সাথে সাথে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেন কৃষি অফিসের লোকজন।

পরে ঘটনাস্থল থেকেই বিষয়টি জেলা কৃষি কৃষি অফিসের সম্প্রসারণের ডিডিকে মুঠোফোনে অবগত করেন সাংবাদিক রনি মিয়াজী। এছাড়াও মৌখিক ভাবে সাথে সাথে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিক ভাবে অভিযোগসহ তেঁতুলিয়া মডেল থানায় অবগত করেন।

এদিকে একজন গনমাধ্যমকর্মীকে আটকিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা ও উপজেলার স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীরা। এর আগেও সংবাদ প্রকাশের জেরে রনি মিয়াজীর বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস ডিসি বরাবরে একটি মিথ্যা অভিযোগও দাখিল করেন।

এবিষয়ে সাংবাদিক রনি মিয়াজী জানান,আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চত্বরে গেলে উপজেলা চত্বরের কৃষি অফিসি সংলগ্ন পাকা সড়কে হঠাৎ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মোটর সাইকেল যোগে এসে আমার মোটর সাইকেল গতিরোধ করেন। এসময় তিনি কৃষি অফিস ও তার বিরুদ্ধে নিউজ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। পরে কৃষি অফিসের অন্য লোকজন এসে আমাকে ঘিরে ধরেন এবং বিভিন্ন উল্টাপাল্টা কথা বলেন এবং বলার পর ভিডিও করা শুরু করেন। পরে ফারুক নামে এক লোক আমাকে আমার ক্যামেরায় থাকা ভিডিও ধারন করা বক্তব্য ডিলিট করতে হুমকি দেন৷ এসময় আমার সহকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি হতে না হতেই তারা সুর পাল্টান৷ আমি সাথে ডিডি,ইউএনও ও থানায় মৌখিক ভাবে বিষয়টি অবগতি করেছি। কৃষি অফিস তাদের অনিয়ম ঢাকতেই এবং আমি তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা আমার বিরুদ্ধে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, এ বিষয়ে রনি মিয়াজী ও অফিস থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়েছেন এবং রনি মিয়াজী মুঠোফোনে অবগত করেছেন। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষতভাবে ঘটেছে। সাংবাদিক যেকোনো তথ্য নিতে পারবেন এতে অনুমতি লাগবে এমন কোনো নির্দেশনা নেই এবং সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা দেয়ারও নির্দেশনা বলা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌসকে মুঠোফোনে কল করা হলে কলটি রিসিভ না হওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তেঁতুলিয়ায় কৃষি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে যমুনা টিভি প্রতিনিধি লাঞ্ছিত

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

তেঁতুলিয়ায় কৃষি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে যমুনা টিভি প্রতিনিধি লাঞ্ছিত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে রনি মিয়াজী নামে এক গণমাধ্যম কর্মীকে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরের কৃষি অফিস সংলগ্ন পাকা সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, রনি মিয়াজী যমুনা টেলিভিশনের পঞ্চগড় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

জানা যায়, গত কিছু দিন আগে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক রনি মিয়াজীসহ কয়েকজন সাংবাদিক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রনি মিয়াজী তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে গেলে এসময় উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী মির্জা শাহরিয়ার রাজীব সাংবাদিক রনি মিয়াজীর মোটর সাইকেল গতিরোধ করেন এবং কৃষি অফিসসহ তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মোটর সাইকেল থেকে সড়কে দাড়ান। এসময় তিনি ওই সাংবাদিক অসামঞ্জস্য কথাবার্তা ও লাঞ্ছিতের করেন।

এদিকে তার কিছুক্ষণ পর কৃষি অফিসের উপ-সহকারী ইলিয়াস ফারুক,মোসাদ্দেকুর রহমান, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব,অফিস সহাকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মশিউর রহমান,পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জীবন ইসলামসহ অন্য উপসহকারীসহ কৃষি অফিসের লোকজন সাংবাদিক রনি মিয়াজীকে ঘিড়ে ফেলেন৷ পরে বিভিন্ন কথাবার্তা, উল্টোপাল্টা প্রশ্ন ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এসময় উপসহকারী ইলিয়াস ফারুক ও মশিউর রহমান মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন এবং কৃষকের দেয়া বক্তব্য ডিলিট করতে আক্রমনাত্মক কর্তবার্তা ও হুমকি দেন উপসহকারী ফারুক। এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক ও লোকজনের উপস্থিতি পেলে সাথে সাথে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেন কৃষি অফিসের লোকজন।

পরে ঘটনাস্থল থেকেই বিষয়টি জেলা কৃষি কৃষি অফিসের সম্প্রসারণের ডিডিকে মুঠোফোনে অবগত করেন সাংবাদিক রনি মিয়াজী। এছাড়াও মৌখিক ভাবে সাথে সাথে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিক ভাবে অভিযোগসহ তেঁতুলিয়া মডেল থানায় অবগত করেন।

এদিকে একজন গনমাধ্যমকর্মীকে আটকিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা ও উপজেলার স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীরা। এর আগেও সংবাদ প্রকাশের জেরে রনি মিয়াজীর বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস ডিসি বরাবরে একটি মিথ্যা অভিযোগও দাখিল করেন।

এবিষয়ে সাংবাদিক রনি মিয়াজী জানান,আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চত্বরে গেলে উপজেলা চত্বরের কৃষি অফিসি সংলগ্ন পাকা সড়কে হঠাৎ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মোটর সাইকেল যোগে এসে আমার মোটর সাইকেল গতিরোধ করেন। এসময় তিনি কৃষি অফিস ও তার বিরুদ্ধে নিউজ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। পরে কৃষি অফিসের অন্য লোকজন এসে আমাকে ঘিরে ধরেন এবং বিভিন্ন উল্টাপাল্টা কথা বলেন এবং বলার পর ভিডিও করা শুরু করেন। পরে ফারুক নামে এক লোক আমাকে আমার ক্যামেরায় থাকা ভিডিও ধারন করা বক্তব্য ডিলিট করতে হুমকি দেন৷ এসময় আমার সহকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি হতে না হতেই তারা সুর পাল্টান৷ আমি সাথে ডিডি,ইউএনও ও থানায় মৌখিক ভাবে বিষয়টি অবগতি করেছি। কৃষি অফিস তাদের অনিয়ম ঢাকতেই এবং আমি তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা আমার বিরুদ্ধে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, এ বিষয়ে রনি মিয়াজী ও অফিস থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়েছেন এবং রনি মিয়াজী মুঠোফোনে অবগত করেছেন। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষতভাবে ঘটেছে। সাংবাদিক যেকোনো তথ্য নিতে পারবেন এতে অনুমতি লাগবে এমন কোনো নির্দেশনা নেই এবং সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা দেয়ারও নির্দেশনা বলা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌসকে মুঠোফোনে কল করা হলে কলটি রিসিভ না হওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।