ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দুই চোর পঞ্চগড়ে সাবেক মেয়র ও জেলা পরিষদ প্রশাসক তৌহিদুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলের রাজস্থলীতে ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রাণীশংকৈলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, কোনো বৈষম্য থাকবে না-ধর্ম যার যার, বাংলাদেশটা সবার বাগাতিপাড়ায় ৪৫ টাকার চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৩ নাটোর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বাকী শ্রীবরদীতে বিজিবির অভিযানে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও ইজিবাইক জব্দ নাটোর জেলা যুবলীগের কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা জাকারিয়া বুলবুলের

রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের

বস্তা সংকট ও কম দামে বিক্রি না হওয়ায় হিমাগারে রাখা হয়নি—খোলা জায়গায় নষ্ট হচ্ছে আলু

রাজশাহীতে বস্তা সংকট, অতিরিক্ত দাম এবং সময়মতো হিমাগারে সংরক্ষণ করতে না পারায় কৃষকের ঘরে-বাইরে স্তূপ করে রাখা আলু গরমে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে দাম কম থাকায় বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

জানা গেছে, অনেক কৃষক আলু উত্তোলনের পর বস্তার অভাবে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে কিংবা আমবাগানে খোলা জায়গায় আলু স্তূপ করে রাখেন। কিন্তু তীব্র গরমে এসব আলু দ্রুত পচে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই নষ্ট আলু ময়লার ভাগাড়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে বাজারে ডায়মন্ড (সাদা) আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা কেজি এবং ইস্টিক (লাল) আলু ১০ থেকে ১১ টাকায়। এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। লোকসানের কারণে ঋণের চাপ বাড়ছে এবং তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেক কৃষকের অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো কার্যকর পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কিছুটা বাড়লেও হঠাৎ বস্তা সংকট দেখা দেয়। গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, এবার তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছায়। এতে আলু বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং দাম দ্রুত কমে যায়। বস্তার অভাবে অনেকেই আলু বিক্রি বা সংরক্ষণ করতে পারেননি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে।

তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, “পৌনে চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হলেও বস্তার অভাবে বিক্রি করতে পারিনি। এখন বাড়ির পাশে রাখা আলু গরমে পচে যাচ্ছে।”
মোহনপুর উপজেলার কৃষক আবু হেলা জানান, এক বিঘা জমির আলু এখনও বিক্রি করতে পারেননি। স্তূপে রাখা আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।

রহমান কোল্ডস্টোরেজের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হালিম বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতায় এ বছর বস্তা উৎপাদন কম হওয়ায় তীব্র সংকট তৈরি হয়। ফলে অনেক কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে পারেননি।
তানোরের কৃষক ও ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী জানান, মৌসুমের শুরুতেই বস্তার দাম বাড়তে থাকে এবং পরে তা আরও বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে মোহনপুরের আলু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫-৬ গাড়ি আলু দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ আলু কৃষকদের কাছে পড়ে আছে, যা হিমাগার খোলার আগেই শেষ হওয়া কঠিন।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট নিরসন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করলে তারা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীতে আলুর স্তূপে পচন, গরমে লোকসানের বোঝা বাড়ছে কৃষকের

বস্তা সংকট ও কম দামে বিক্রি না হওয়ায় হিমাগারে রাখা হয়নি—খোলা জায়গায় নষ্ট হচ্ছে আলু

রাজশাহীতে বস্তা সংকট, অতিরিক্ত দাম এবং সময়মতো হিমাগারে সংরক্ষণ করতে না পারায় কৃষকের ঘরে-বাইরে স্তূপ করে রাখা আলু গরমে পচে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে দাম কম থাকায় বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

জানা গেছে, অনেক কৃষক আলু উত্তোলনের পর বস্তার অভাবে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে কিংবা আমবাগানে খোলা জায়গায় আলু স্তূপ করে রাখেন। কিন্তু তীব্র গরমে এসব আলু দ্রুত পচে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই নষ্ট আলু ময়লার ভাগাড়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে বাজারে ডায়মন্ড (সাদা) আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা কেজি এবং ইস্টিক (লাল) আলু ১০ থেকে ১১ টাকায়। এ দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। লোকসানের কারণে ঋণের চাপ বাড়ছে এবং তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেক কৃষকের অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো কার্যকর পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কিছুটা বাড়লেও হঠাৎ বস্তা সংকট দেখা দেয়। গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, এবার তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছায়। এতে আলু বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং দাম দ্রুত কমে যায়। বস্তার অভাবে অনেকেই আলু বিক্রি বা সংরক্ষণ করতে পারেননি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে।

তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, “পৌনে চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হলেও বস্তার অভাবে বিক্রি করতে পারিনি। এখন বাড়ির পাশে রাখা আলু গরমে পচে যাচ্ছে।”
মোহনপুর উপজেলার কৃষক আবু হেলা জানান, এক বিঘা জমির আলু এখনও বিক্রি করতে পারেননি। স্তূপে রাখা আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।

রহমান কোল্ডস্টোরেজের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হালিম বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতায় এ বছর বস্তা উৎপাদন কম হওয়ায় তীব্র সংকট তৈরি হয়। ফলে অনেক কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে পারেননি।
তানোরের কৃষক ও ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী জানান, মৌসুমের শুরুতেই বস্তার দাম বাড়তে থাকে এবং পরে তা আরও বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে মোহনপুরের আলু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫-৬ গাড়ি আলু দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হলেও এখনও বিপুল পরিমাণ আলু কৃষকদের কাছে পড়ে আছে, যা হিমাগার খোলার আগেই শেষ হওয়া কঠিন।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট নিরসন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করলে তারা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।