ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নলডাঙ্গা ও নাটোর সদরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ লালপুরে স্টিয়ারিং স্যালোগাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত রাজশাহীতে মহিষের শিংয়ের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা ঝিনাইগাতীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, হাজারো শ্রমিক বেকার সিংড়ায় অটোরিকশা চালকের লা’শ উদ্ধার, হ/ত্যার সন্দেহ পঞ্চগড়ে গণ-ধ/র্ষ/ণ মামলা মি’থ্যা প্রমাণিত, বাদীর বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি পঞ্চগড়ে সীমান্তের ৩০ বেকার যুবককে ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ রাজশাহী রেলস্টেশনে মাটি কাটতে গিয়ে ডিজেল ট্যাংকের পাইপ ফেটে অপচয়ের অভিযোগ হরিপুরে পূবালী ব্যাংকের বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন

অর্থের লোভে বিয়ে ও তালাক সম্পাদনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের কাজী মোখলেছুরের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ২২৮ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অর্থের লোভে বিয়ে ও তালাক সম্পাদনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের কাজী মোখলেছুরের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

৩০ লাখ টাকা দেনমোহরের বিয়ের দুই দিন পরই ‘বিবাহ বাতিল’; আগেও একই ঘটনায় কারাবরণ করেছিলেন অভিযুক্ত কাজী

অর্থের লোভে নিয়ম না মেনে বিয়ে সম্পাদন, অস্বাভাবিকভাবে নিকাহ বাতিল (তালাক) এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজী মোখলেছুর রহমান-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় তিনি কারাবরণ করেছিলেন।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও শহরের এক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তির বিয়ের ঘটনা নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে কাজী মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের বিষয় সামনে আসে।

কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাজী মোখলেছুর রহমান শফিকুল ইসলামের বিয়ে সম্পাদন করেন এবং ওই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৩০ লাখ টাকা। তবে বিস্ময়করভাবে বিয়ের মাত্র দুই দিন পরই তালাকের নথি সম্পাদন করা হয় এবং বিবাহ রেজিস্টারে কাজী নিজেই সেটিকে ‘বিবাহ বাতিল’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নিয়মবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজে তালাকনামা তৈরি হলেও বাস্তবে ওই দম্পতি এখনও স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন। তাদের বৈবাহিক জীবন দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত কাজী মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পূর্বের তারিখ দেখিয়ে বিয়ে ও তালাকের নথি তৈরি এবং আলাদা আলাদা রেজিস্টার বই ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তদারকি না থাকা বা কোনো ধরনের যোগসাজসের কারণেই এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থের লোভে আইনি ও ধর্মীয় বিধি উপেক্ষা করে বিয়ে সম্পাদন করা গুরুতর সামাজিক অপরাধ। বৈধ অভিভাবকের সম্মতি বা সাক্ষী ছাড়া কিংবা প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা আইনত দণ্ডনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, “৩০ লাখ টাকা দেনমোহরের বিয়ে এবং পরে তালাকের নথি সম্পাদনের ঘটনাটি ভুল হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের চাপে তা করতে হয়েছিল।” তবে অন্য অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার কথা জানান।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিয়ের দুই দিন পর তালাকের নথি সম্পাদন করার কোনো নিয়ম নেই এবং তালাকের রেজিস্টার আলাদা থাকে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অর্থের লোভে বিয়ে ও তালাক সম্পাদনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের কাজী মোখলেছুরের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

অর্থের লোভে বিয়ে ও তালাক সম্পাদনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁওয়ের কাজী মোখলেছুরের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

৩০ লাখ টাকা দেনমোহরের বিয়ের দুই দিন পরই ‘বিবাহ বাতিল’; আগেও একই ঘটনায় কারাবরণ করেছিলেন অভিযুক্ত কাজী

অর্থের লোভে নিয়ম না মেনে বিয়ে সম্পাদন, অস্বাভাবিকভাবে নিকাহ বাতিল (তালাক) এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজী মোখলেছুর রহমান-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় তিনি কারাবরণ করেছিলেন।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও শহরের এক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তির বিয়ের ঘটনা নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে কাজী মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের বিষয় সামনে আসে।

কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাজী মোখলেছুর রহমান শফিকুল ইসলামের বিয়ে সম্পাদন করেন এবং ওই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৩০ লাখ টাকা। তবে বিস্ময়করভাবে বিয়ের মাত্র দুই দিন পরই তালাকের নথি সম্পাদন করা হয় এবং বিবাহ রেজিস্টারে কাজী নিজেই সেটিকে ‘বিবাহ বাতিল’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নিয়মবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজে তালাকনামা তৈরি হলেও বাস্তবে ওই দম্পতি এখনও স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন। তাদের বৈবাহিক জীবন দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত কাজী মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পূর্বের তারিখ দেখিয়ে বিয়ে ও তালাকের নথি তৈরি এবং আলাদা আলাদা রেজিস্টার বই ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তদারকি না থাকা বা কোনো ধরনের যোগসাজসের কারণেই এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থের লোভে আইনি ও ধর্মীয় বিধি উপেক্ষা করে বিয়ে সম্পাদন করা গুরুতর সামাজিক অপরাধ। বৈধ অভিভাবকের সম্মতি বা সাক্ষী ছাড়া কিংবা প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা আইনত দণ্ডনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, “৩০ লাখ টাকা দেনমোহরের বিয়ে এবং পরে তালাকের নথি সম্পাদনের ঘটনাটি ভুল হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের চাপে তা করতে হয়েছিল।” তবে অন্য অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার কথা জানান।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিয়ের দুই দিন পর তালাকের নথি সম্পাদন করার কোনো নিয়ম নেই এবং তালাকের রেজিস্টার আলাদা থাকে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।