ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নলডাঙ্গা ও নাটোর সদরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ লালপুরে স্টিয়ারিং স্যালোগাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত রাজশাহীতে মহিষের শিংয়ের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা ঝিনাইগাতীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, হাজারো শ্রমিক বেকার সিংড়ায় অটোরিকশা চালকের লা’শ উদ্ধার, হ/ত্যার সন্দেহ পঞ্চগড়ে গণ-ধ/র্ষ/ণ মামলা মি’থ্যা প্রমাণিত, বাদীর বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি পঞ্চগড়ে সীমান্তের ৩০ বেকার যুবককে ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ রাজশাহী রেলস্টেশনে মাটি কাটতে গিয়ে ডিজেল ট্যাংকের পাইপ ফেটে অপচয়ের অভিযোগ হরিপুরে পূবালী ব্যাংকের বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দীনের আসন পুনরুদ্ধার করলেন পুত্র নওশাদ জমির

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়:
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দীনের আসন পুনরুদ্ধার করলেন পুত্র নওশাদ জমির

পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়; দেড় যুগ পর বিএনপির ঘরে ফিরল আসন

সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য, বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার-এর পুত্র ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তার বাবার হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১/১১–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন এবং পরে আইন পেশায় সক্রিয় হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মজারুল হক প্রধান ও তৎকালীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) (ইনু) জোট প্রার্থী নাজমুল হক প্রধানের দখলে যায়। প্রায় দেড় যুগ পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নওশাদ জমির আসনটি পুনরুদ্ধার করেন।

নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়ে নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলম পান ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আইন পেশার পাশাপাশি পঞ্চগড়-১ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় রাজনীতি করেন নওশাদ জমির। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে তাকে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্য হিসেবেও আলোচনা করা হচ্ছে।

জেলা যুবদলের সভাপতি নুরুরজ্জামান বাবু বলেন, “আমরা নওশাদ জমিরকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। সময়ের দাবিতে পঞ্চগড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, পরিবেশগত উন্নয়ন, শিল্পনগরী ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তার নেতৃত্বে পঞ্চগড় এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

বিজয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নওশাদ জমির বলেন, “দলমত নির্বিশেষে জেলার সবাইকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আগামীর দিন হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির।”

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, নওশাদ জমিরের এ বিজয় পঞ্চগড়ের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—তার নেতৃত্বে পঞ্চগড় উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দীনের আসন পুনরুদ্ধার করলেন পুত্র নওশাদ জমির

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দীনের আসন পুনরুদ্ধার করলেন পুত্র নওশাদ জমির

পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়; দেড় যুগ পর বিএনপির ঘরে ফিরল আসন

সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য, বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার-এর পুত্র ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তার বাবার হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১/১১–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন এবং পরে আইন পেশায় সক্রিয় হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মজারুল হক প্রধান ও তৎকালীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) (ইনু) জোট প্রার্থী নাজমুল হক প্রধানের দখলে যায়। প্রায় দেড় যুগ পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নওশাদ জমির আসনটি পুনরুদ্ধার করেন।

নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়ে নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলম পান ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আইন পেশার পাশাপাশি পঞ্চগড়-১ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় রাজনীতি করেন নওশাদ জমির। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে তাকে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্য হিসেবেও আলোচনা করা হচ্ছে।

জেলা যুবদলের সভাপতি নুরুরজ্জামান বাবু বলেন, “আমরা নওশাদ জমিরকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। সময়ের দাবিতে পঞ্চগড়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, পরিবেশগত উন্নয়ন, শিল্পনগরী ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তার নেতৃত্বে পঞ্চগড় এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

বিজয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নওশাদ জমির বলেন, “দলমত নির্বিশেষে জেলার সবাইকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আগামীর দিন হবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির।”

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, নওশাদ জমিরের এ বিজয় পঞ্চগড়ের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—তার নেতৃত্বে পঞ্চগড় উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাবে।