ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দুই চোর পঞ্চগড়ে সাবেক মেয়র ও জেলা পরিষদ প্রশাসক তৌহিদুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলের রাজস্থলীতে ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রাণীশংকৈলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, কোনো বৈষম্য থাকবে না-ধর্ম যার যার, বাংলাদেশটা সবার বাগাতিপাড়ায় ৪৫ টাকার চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৩ নাটোর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বাকী শ্রীবরদীতে বিজিবির অভিযানে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও ইজিবাইক জব্দ নাটোর জেলা যুবলীগের কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা জাকারিয়া বুলবুলের

রাণীশংকৈলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ২৮৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭,১২৫ হেক্টরে আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি—ভোজ্য তেল ও খাঁটি মধুতে স্বস্তির আশা

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কয়েকশ’ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হওয়ায় কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করছে। মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ এলাকাবাসী, আর সেই ফুল থেকেই খাঁটি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষীরা।

আমন ধান কাটার পর রবি মৌসুমের আগে পড়তি জমিতে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অল্প সময়েই সরিষা গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মাঠভরা ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। স্বল্প খরচে ও অল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হলুদ ফুল আর মধুর মিষ্টি সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট।

উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাদিহাট মালিবস্তি এলাকায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে আসা মৌচাষী আব্দুস সাত্তার শতাধিক মৌবাক্স স্থাপন করেছেন সরিষা ফুল থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহের জন্য। তিনি জানান, প্রায় ১৫–২০ দিন অবস্থান করে ১৫–২০ মন মধু সংগ্রহের আশা করছেন। তবে ফুলে পর্যাপ্ত রস না থাকায় এবার তুলনামূলক কিছুটা কম মধু সংগ্রহ হতে পারে। মাঠ থেকেই প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা দরে পাইকার ও স্থানীয়দের কাছে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক মঞ্জুর আলম, মাহিম ও সোহেল বলেন, সরিষা চাষের মাধ্যমে যেমন ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি মৌচাষীদের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে ভেজালমুক্ত খাঁটি মধু। তাই সরিষার আবাদ আরও বাড়ানো উচিত।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বারি সরিষা-৭, ৮, ১৪, ১৮, ২০, বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০, ১১ এবং বাউ সরিষা-৪ থেকে ৮ জাতের উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব জাত স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন (৯০–৯৫ দিন), বেশি তেল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

কাশিপুর ইউনিয়নের পাটাগড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ‘এবার প্রথম দুই বিঘা জমিতে সরিষা করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। আশা করছি বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারবো।’

নন্দুয়ার ইউনিয়নের বেল্লাল, বাচোর ইউনিয়নের মামুন এবং হোসেনগা ইউনিয়নের লিটন আলীসহ অনেক কৃষক জানান, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান চাষের আগের ফাঁকা সময়ে সরিষা আবাদ করে তারা বাড়তি ফসল ও বাড়তি আয় পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে যেখানে ৬,৪২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে ৭,১২৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণ সরিষা আবাদ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘন কুয়াশা কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি চলতি মৌসুমে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাণীশংকৈলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, ফুলে ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষীরা

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭,১২৫ হেক্টরে আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি—ভোজ্য তেল ও খাঁটি মধুতে স্বস্তির আশা

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কয়েকশ’ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হওয়ায় কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করছে। মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ এলাকাবাসী, আর সেই ফুল থেকেই খাঁটি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষীরা।

আমন ধান কাটার পর রবি মৌসুমের আগে পড়তি জমিতে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অল্প সময়েই সরিষা গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মাঠভরা ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। স্বল্প খরচে ও অল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হলুদ ফুল আর মধুর মিষ্টি সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট।

উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাদিহাট মালিবস্তি এলাকায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে আসা মৌচাষী আব্দুস সাত্তার শতাধিক মৌবাক্স স্থাপন করেছেন সরিষা ফুল থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহের জন্য। তিনি জানান, প্রায় ১৫–২০ দিন অবস্থান করে ১৫–২০ মন মধু সংগ্রহের আশা করছেন। তবে ফুলে পর্যাপ্ত রস না থাকায় এবার তুলনামূলক কিছুটা কম মধু সংগ্রহ হতে পারে। মাঠ থেকেই প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা দরে পাইকার ও স্থানীয়দের কাছে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক মঞ্জুর আলম, মাহিম ও সোহেল বলেন, সরিষা চাষের মাধ্যমে যেমন ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি মৌচাষীদের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে ভেজালমুক্ত খাঁটি মধু। তাই সরিষার আবাদ আরও বাড়ানো উচিত।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বারি সরিষা-৭, ৮, ১৪, ১৮, ২০, বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০, ১১ এবং বাউ সরিষা-৪ থেকে ৮ জাতের উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব জাত স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন (৯০–৯৫ দিন), বেশি তেল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

কাশিপুর ইউনিয়নের পাটাগড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ‘এবার প্রথম দুই বিঘা জমিতে সরিষা করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। আশা করছি বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারবো।’

নন্দুয়ার ইউনিয়নের বেল্লাল, বাচোর ইউনিয়নের মামুন এবং হোসেনগা ইউনিয়নের লিটন আলীসহ অনেক কৃষক জানান, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান চাষের আগের ফাঁকা সময়ে সরিষা আবাদ করে তারা বাড়তি ফসল ও বাড়তি আয় পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে যেখানে ৬,৪২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে ৭,১২৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণ সরিষা আবাদ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘন কুয়াশা কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি চলতি মৌসুমে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।’