ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দুই চোর পঞ্চগড়ে সাবেক মেয়র ও জেলা পরিষদ প্রশাসক তৌহিদুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলের রাজস্থলীতে ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রাণীশংকৈলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, কোনো বৈষম্য থাকবে না-ধর্ম যার যার, বাংলাদেশটা সবার বাগাতিপাড়ায় ৪৫ টাকার চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৩ নাটোর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বাকী শ্রীবরদীতে বিজিবির অভিযানে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও ইজিবাইক জব্দ নাটোর জেলা যুবলীগের কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা জাকারিয়া বুলবুলের

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

উমর ফারুক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ৩৫২ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

ঝকঝকে কাঁচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর পরিচ্ছন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের ঋতু শরৎ এখন প্রায় শেষের পথে। এমন সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম রূপ। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ও মেঘে আকাশ ঢেকে থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই পরিষ্কার আকাশে চোখে পড়ে বরফে ঢাকা তুষার শুভ্র পর্বতশৃঙ্গটি।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত-শীত শুরুর আগে-মেঘমুক্ত আকাশে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা ও হিমালয়ের সৌন্দর্য। এ বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ দৃশ্য চোখে পড়ছে স্থানীয়দের।

সূর্যকিরণের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে যায়। তবে বিকেলে সূর্যের তির্যক আলো পড়লে আবারও অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ওঠে এই মহিমান্বিত পর্বতশৃঙ্গ।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের ৬৪ কিলোমিটার, আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। ফলে মেঘমুক্ত দিনে এখানকার উত্তর-পশ্চিম আকাশে স্পষ্ট দেখা যায় বরফে মোড়ানো সাদা পাহাড়-যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার (২৮,১৬৯ ফুট)। ১৮৫২ সালের আগে একে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে মনে করা হতো। ১৯৫৫ সালের ২৫ মে প্রথম ব্রিটিশ পর্বতারোহী দল জোয়ে ব্রাউন ও জর্জ ব্যান্ড এই শৃঙ্গে আরোহণ করেন।

বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অন্যতম আদর্শ স্থান ভারতের দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল। তবে যারা বিদেশ যেতে পারেন না, তারা বাংলাদেশের পঞ্চগড়েই এই নয়নাভিরাম রূপ উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা স্বপ্নের মতো- প্রথমে কালচে, তারপর টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ হয়ে শেষে শুভ্র সাদা রূপে সেজে ওঠে পর্বতচূড়াটি। এই দৃশ্য দেখতে দূরবীনের প্রয়োজন হয় না, খালি চোখেই দেখা যায় প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য।

স্থানীয়দের ভাষায়, “তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাওয়া মানে সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব উপহার।”
এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান বাংলাবান্ধা ও তেঁতুলিয়ার হিমালয় দর্শন পয়েন্টে। পর্যটকদের জন্য এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে হোটেল, মোটেল ও পিকনিক স্পটও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

পঞ্চগড়ের নীল আকাশে ভেসে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ

ঝকঝকে কাঁচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর পরিচ্ছন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের ঋতু শরৎ এখন প্রায় শেষের পথে। এমন সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম রূপ। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ও মেঘে আকাশ ঢেকে থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই পরিষ্কার আকাশে চোখে পড়ে বরফে ঢাকা তুষার শুভ্র পর্বতশৃঙ্গটি।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত-শীত শুরুর আগে-মেঘমুক্ত আকাশে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা ও হিমালয়ের সৌন্দর্য। এ বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ দৃশ্য চোখে পড়ছে স্থানীয়দের।

সূর্যকিরণের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে যায়। তবে বিকেলে সূর্যের তির্যক আলো পড়লে আবারও অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ওঠে এই মহিমান্বিত পর্বতশৃঙ্গ।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের ৬৪ কিলোমিটার, আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। ফলে মেঘমুক্ত দিনে এখানকার উত্তর-পশ্চিম আকাশে স্পষ্ট দেখা যায় বরফে মোড়ানো সাদা পাহাড়-যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার (২৮,১৬৯ ফুট)। ১৮৫২ সালের আগে একে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে মনে করা হতো। ১৯৫৫ সালের ২৫ মে প্রথম ব্রিটিশ পর্বতারোহী দল জোয়ে ব্রাউন ও জর্জ ব্যান্ড এই শৃঙ্গে আরোহণ করেন।

বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অন্যতম আদর্শ স্থান ভারতের দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল। তবে যারা বিদেশ যেতে পারেন না, তারা বাংলাদেশের পঞ্চগড়েই এই নয়নাভিরাম রূপ উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা স্বপ্নের মতো- প্রথমে কালচে, তারপর টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ হয়ে শেষে শুভ্র সাদা রূপে সেজে ওঠে পর্বতচূড়াটি। এই দৃশ্য দেখতে দূরবীনের প্রয়োজন হয় না, খালি চোখেই দেখা যায় প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য।

স্থানীয়দের ভাষায়, “তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাওয়া মানে সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব উপহার।”
এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান বাংলাবান্ধা ও তেঁতুলিয়ার হিমালয় দর্শন পয়েন্টে। পর্যটকদের জন্য এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে হোটেল, মোটেল ও পিকনিক স্পটও।