ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে মাদক সেবনের দায়ে একজনের কারাদণ্ড ও জরিমানা সিংড়ায় ট্রাক-অটোভ্যান সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু, স্বামী আহত উপকূলজুড়ে রহস্যময় আলোর ঝলক, কক্সবাজার থেকে মনপুরা পর্যন্ত চাঞ্চল্য বিএনপির জন্য যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে দল: দুলু শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, মনোবলই শক্তি-আশির উদ্দিনের জীবনসংগ্রাম বিএডিসির বীজে একই খেতে তিন রকম ধান, বিপাকে রাজশাহীর কৃষক পুঠিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৩ টিনশেড বাড়িসহ ৭ ছাগল নাতির ছোড়া হাঁসুয়া দাদির পেটে বিদ্ধ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু দুবাই থেকে হ/ত্যা মামলার আসামিকে দেশে আনলো পিবিআই বাগাতিপাড়ায় নাটোরের দুই মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে জীবনযুদ্ধে

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা!

এম নোমান চৌধুরী, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা। চরফ্যাসন উপজেলার মৎস্যপল্লীর শিশুদের কানে পৌঁছায় না স্কুলের ঘণ্টা। যে বয়সে হাতে থাকবে বই, কাঁধে স্কুল ব্যাগ, সে বয়সে ওরা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধরছে মাছ। হাসি-আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা থাকলেও, মাথায় বহন করে মাছের ঝুঁড়ি। করোনায় শিখিয়ে গেছেন বইয়ের পরিবর্তে কাজ।
মৎস্যপল্লীর অধিকাংশ শিশু হয়ে ওঠে মৎস্যজীবী। মাছ ধরা, বিক্রি করা, ট্রলার বা নৌকা থেকে ঝুঁড়ি ভরে মাছ নামানো সহ সবই পারে তারা। পরিবার ও পেটের প্রয়োজনে এভাবেই শিশু বয়সে শ্রমের জালে আটকে যায় অধিকাংশ শিশুর জীবন। উপজেলার বেতুয়া, সামরাজ, খেজুর গাছিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। এই পরিবারগুলোর অসংখ্য শিশুর দিন কাটে এভাবে।

মা রোকেয়া বেগম জানান, ছোট ছেলে বয়স মাত্র ১৩ বছর। যে প্রায় দুই বছর বেশি সময় ধরে তার বাবা ও ভাইদের সাথে নদীতে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, শিশুদের কাঁধে থাকে সংসারের বোঝা। পরিবারের সদস্যদের পেটে জন্য কাজ করতে হয় ছোট ছোট শিশুদের।
মাঝি হানিফ মিয়ার দুই সন্তান জহিরুল (২১) ও আবির (১৪)। সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে হানিফ মিয়া বলেন, আমার পরিবারে সাত সদস্য। একজনের ইনকামে সংসার না। নদীতে জাল ফেলা, মাছ ধরা, এত কাজ একা করা সম্ভব হয় বলেই বাধ্য হয়ে ছেলেদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যাই।
তবুও সুন্দর একটি জীবন চায় মৎস্যপল্লীর শিশুরা। পরিবারও চায়, তাদের সন্তানরা বেড়ে উঠুক আর দশটা শিশুর মতই। বাবা হয়েও সন্তানকে শিশুবান্ধব জীবন দিতে না পারার কষ্ট বুকে পাথর হয়ে থাকে। সেই কষ্ট অশ্রু হয়ে জায়গা পায় বাবাদের চোখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা!

আপডেট সময় : ১২:১৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা!

এম নোমান চৌধুরী, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চরফ্যাশনের মৎস্যপল্লীর শিশুরা। চরফ্যাসন উপজেলার মৎস্যপল্লীর শিশুদের কানে পৌঁছায় না স্কুলের ঘণ্টা। যে বয়সে হাতে থাকবে বই, কাঁধে স্কুল ব্যাগ, সে বয়সে ওরা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধরছে মাছ। হাসি-আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা থাকলেও, মাথায় বহন করে মাছের ঝুঁড়ি। করোনায় শিখিয়ে গেছেন বইয়ের পরিবর্তে কাজ।
মৎস্যপল্লীর অধিকাংশ শিশু হয়ে ওঠে মৎস্যজীবী। মাছ ধরা, বিক্রি করা, ট্রলার বা নৌকা থেকে ঝুঁড়ি ভরে মাছ নামানো সহ সবই পারে তারা। পরিবার ও পেটের প্রয়োজনে এভাবেই শিশু বয়সে শ্রমের জালে আটকে যায় অধিকাংশ শিশুর জীবন। উপজেলার বেতুয়া, সামরাজ, খেজুর গাছিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। এই পরিবারগুলোর অসংখ্য শিশুর দিন কাটে এভাবে।

মা রোকেয়া বেগম জানান, ছোট ছেলে বয়স মাত্র ১৩ বছর। যে প্রায় দুই বছর বেশি সময় ধরে তার বাবা ও ভাইদের সাথে নদীতে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, শিশুদের কাঁধে থাকে সংসারের বোঝা। পরিবারের সদস্যদের পেটে জন্য কাজ করতে হয় ছোট ছোট শিশুদের।
মাঝি হানিফ মিয়ার দুই সন্তান জহিরুল (২১) ও আবির (১৪)। সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে হানিফ মিয়া বলেন, আমার পরিবারে সাত সদস্য। একজনের ইনকামে সংসার না। নদীতে জাল ফেলা, মাছ ধরা, এত কাজ একা করা সম্ভব হয় বলেই বাধ্য হয়ে ছেলেদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যাই।
তবুও সুন্দর একটি জীবন চায় মৎস্যপল্লীর শিশুরা। পরিবারও চায়, তাদের সন্তানরা বেড়ে উঠুক আর দশটা শিশুর মতই। বাবা হয়েও সন্তানকে শিশুবান্ধব জীবন দিতে না পারার কষ্ট বুকে পাথর হয়ে থাকে। সেই কষ্ট অশ্রু হয়ে জায়গা পায় বাবাদের চোখে।