বড়াইগ্রামে ব্যবসায়ীকে ডেকে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

বড়াইগ্রামে ব্যবসায়ীকে ডেকে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে হাসান আলী নামে এক ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মিনারুল ইসলাম জনি (৩৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার জনিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মিনারুল ইসলাম জনি উপজেলার মাঝগ্রাম পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী হাসান আলী হারোয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বনপাড়া বাজারের একটি টাইলস ও স্যানিটারি সামগ্রীর দোকানের ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাঝগ্রাম ইউনিয়নের বউবাজার এলাকার দোলনা খাতুন (৪০) নামে এক নারী হাসান আলীর দোকান থেকে ১৯ হাজার টাকার টাইলস বাকিতে কেনেন। প্রায় চার মাস ধরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার পর গত ১৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে টাকা পরিশোধের কথা বলে হাসানকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন ওই নারী।
হাসান সেখানে যাওয়ার পর আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন যুবক ঘরে ঢুকে তাকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ভয় দেখিয়ে তাকে বিবস্ত্র করে ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২৬ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে বুথ থেকে আরও ২৭ হাজার টাকা তুলে নেয় চক্রটি। এছাড়া হাসানকে দিয়ে তার দোকানের কর্মচারীকে ফোন করিয়ে দোকান থেকে আরও ৬০ হাজার টাকার টাইলস নিয়ে যায় তারা।
পরে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে হাসানের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেল আটকে রেখে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন বাধ্য হয়ে হাসান ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে নগদ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন। তবে মোটরসাইকেলটি ফেরত না পেয়ে গত ২৯ জুলাই সেটি ফেরত চাইলে আরও টাকা দাবি করা হয়। ওই দিন তিনি আরও ৪০ হাজার টাকা দেন। এরপরও মোটরসাইকেলটি ফেরত না দিয়ে বাকি টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অবশেষে রোববার রাতে দাবিকৃত টাকার অবশিষ্টাংশ নিতে অভিযুক্ত মিনারুল ইসলাম জনি হাসানের দোকানে এলে তিনি কৌশলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, পাঁচ দফায় নগদ টাকা, এটিএম কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থ ও মালামালসহ মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














