রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০৭:২৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
এম এম মামুন:
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহীর ছাত্র-জনতা।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তাঁদের দাবি, কোনো টেন্ডার ছাড়াই প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুই হাজার গাছ কেটে ফেলা, ১৯ কোটি টাকা মূল্যের পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীর অপসারণে অর্থ আত্মসাৎ, কোটি টাকার আম অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি এবং পুকুর, ফসলি জমি ও দোকান ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডারে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ঠিকাদারের কাছে ৯ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এ কারণে উপাচার্য সামাজিক ও গণমাধ্যমে ‘মিস্টার ৯ পারসেন্ট’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে লিথো ও ওএমআর পেপার সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, ইউজিসির নীতিমালা ও সরকারি বিধি উপেক্ষা করে নিয়োগ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগও করেন বক্তারা।
তাঁদের দাবি, ৯ম গ্রেডের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫ম গ্রেডের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) পদসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক ও পরিচালকসহ নয়টি উচ্চ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘন করে কলেজ পরিদর্শককে ডিনের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
বক্তারা বাস্তবায়ন তদারকি ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং বালু-মাটি ভরাটের কাজে কারিগরি ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া উপাচার্য ও তাঁর পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। বিগত সরকারের সময়ে চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর লবিংয়ের মাধ্যমে উপাচার্যের পদ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সমাবেশ থেকে উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ, তাঁর আমলে দেওয়া কথিত অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, পশ্চিম বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি শামসুল হোসেন মিলু, রাজশাহী মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান সামিম, মহানগর তাঁতী দলের সভাপতি মো. কাজলসহ অন্যরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।









