ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মান্দায় যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ে শেয়ালের কামড়ে শিশুসহ আহত ৯, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় বদলি, গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি বাগাতিপাড়ায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা লালপুরে প্রশাসনিক জটিলতায় বিপাকে ইটভাটা শিল্প, ৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি বাগাতিপাড়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা’র মৃত্যু লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে, তিস্তা পাড়ে আতঙ্ক রাজশাহীতে ৩ লাখাধিক শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সে দোতলা ভবন ভাঙার চেষ্টা, ক্ষোভ

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সে দোতলা ভবন ভাঙার চেষ্টা, ক্ষোভ

প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকার দাবি গবেষকদের; দুদফা কাজ বন্ধ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের একটি দোতলা ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ভবনটির দোতলার ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, শুধু খিলানটি অবশিষ্ট রয়েছে। নিচতলার দুটি কক্ষ এখনো অক্ষত আছে। ভবনটি পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পাশে রাজবাড়ীর সামনের অংশে অবস্থিত।

স্থানীয়রা জানান, একসময় ভবনটিতে রাজবাড়ীর দারোয়ান নিতাই শিং বসবাস করতেন। বর্তমানে সেখানে থাকেন পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন ধরে তিনি ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দুদফা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ভবনটি নিজের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন তিনি।

অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও গবেষকদের মতে, ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে এটি নির্মিত। ফলে এর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে এবং এটি ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির পেছনেই রাজবাড়ীর শিবমন্দির অবস্থিত এবং মূল রাজবাড়ী ভবন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে। পুরনো চুন-সুরকির দেয়াল ভেঙে ইট সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম সাবু বলেন, প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই ভবনটি আগে মারোয়ারিদের সম্পত্তি ছিল। তার দাবি, পাকিস্তান আমলে তার দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার এটি ক্রয় করেন এবং তাদের কাছে বৈধ দলিল রয়েছে। ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুঠিয়ার রাজপরিবার ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নিয়ে গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজবাড়ী ঘিরে থাকা এসব স্থাপনা প্রায় একই সময়ে নির্মিত এবং রাজবাড়ীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ ভবনটিরও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে, তাই এটি সংরক্ষণ করা জরুরি।

পুঠিয়া রাজবাড়ীর কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান জানান, রাজবাড়ী ঘিরে থাকা মোট ২০টি স্থাপনাকে ইতোমধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে এবং আরও তিনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। যে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে সেটি এখনো গেজেটভুক্ত না হলেও এটি রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ এপ্রিল প্রথমবার ভবনটি ভাঙার খবর পেয়ে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। পরে রোববার সকালে আবার ভাঙার কাজ শুরু হলে তা পুনরায় বন্ধ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সে দোতলা ভবন ভাঙার চেষ্টা, ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সে দোতলা ভবন ভাঙার চেষ্টা, ক্ষোভ

প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকার দাবি গবেষকদের; দুদফা কাজ বন্ধ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের একটি দোতলা ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ভবনটির দোতলার ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, শুধু খিলানটি অবশিষ্ট রয়েছে। নিচতলার দুটি কক্ষ এখনো অক্ষত আছে। ভবনটি পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পাশে রাজবাড়ীর সামনের অংশে অবস্থিত।

স্থানীয়রা জানান, একসময় ভবনটিতে রাজবাড়ীর দারোয়ান নিতাই শিং বসবাস করতেন। বর্তমানে সেখানে থাকেন পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন ধরে তিনি ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দুদফা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ভবনটি নিজের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন তিনি।

অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও গবেষকদের মতে, ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত এবং ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে এটি নির্মিত। ফলে এর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে এবং এটি ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির পেছনেই রাজবাড়ীর শিবমন্দির অবস্থিত এবং মূল রাজবাড়ী ভবন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে। পুরনো চুন-সুরকির দেয়াল ভেঙে ইট সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম সাবু বলেন, প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই ভবনটি আগে মারোয়ারিদের সম্পত্তি ছিল। তার দাবি, পাকিস্তান আমলে তার দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার এটি ক্রয় করেন এবং তাদের কাছে বৈধ দলিল রয়েছে। ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুঠিয়ার রাজপরিবার ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নিয়ে গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজবাড়ী ঘিরে থাকা এসব স্থাপনা প্রায় একই সময়ে নির্মিত এবং রাজবাড়ীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ ভবনটিরও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে, তাই এটি সংরক্ষণ করা জরুরি।

পুঠিয়া রাজবাড়ীর কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান জানান, রাজবাড়ী ঘিরে থাকা মোট ২০টি স্থাপনাকে ইতোমধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে এবং আরও তিনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। যে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে সেটি এখনো গেজেটভুক্ত না হলেও এটি রাজবাড়ী কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ এপ্রিল প্রথমবার ভবনটি ভাঙার খবর পেয়ে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। পরে রোববার সকালে আবার ভাঙার কাজ শুরু হলে তা পুনরায় বন্ধ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।