ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় বাউয়েট শিক্ষার্থীর সাফল্য রাজশাহীর গ্রামীণ পথে লালে রঙিন কৃষ্ণচূড়া, মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে প্রকৃতির রূপ লালপুরে অভিনব কায়দায় মিটার চুরি, রেখে গেল মোবাইল নম্বর লেখা চিরকুট লালপুরে পৃথক অভিযানে জরিমানা ১ লাখ টাকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট রুহি, হৃদয়ে ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার—বাঁচতে চায় সে বাগাতিপাড়ায় গলায় ওড়না পেঁ’চিয়ে তরুণীর আ/ত্ম/হ/ত্যা দেবীগঞ্জে পেট্রোল পাম্পে হামলার শিকার ইউএনও সিহালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দাওকান্দি কলেজে অধ্যক্ষ ও কথিত শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সিংড়ায় ভিজিডি চাল বিক্রির প্রমাণ: প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট রুহি, হৃদয়ে ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার—বাঁচতে চায় সে

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

Pic Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট রুহি, হৃদয়ে ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার—বাঁচতে চায় সে

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর নানার বাড়িতে আশ্রয়, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ১০-১২ লাখ টাকা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জন্মের পর থেকেই নানা জটিল রোগে ভুগছে ৯ বছর বয়সী শিশু রুকাইয়া সুলতানা রুহি। হৃদয়ে একাধিক ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার নিয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে সে। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

উপজেলার জাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের মো. রমজান আলী ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির বড় মেয়ে রুহি। তবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর বর্তমানে মায়ের সঙ্গে সান্যালপাড়া গ্রামে তার নানা-নানীর বাড়িতে বসবাস করছে। নানা আব্দুল মান্নান কিডনি রোগে এবং নানী আমিরন বেগম স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত—ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই রুহির হার্টবিট অস্বাভাবিক ছিল। মাত্র তিন মাস বয়সে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে হৃদয়ে একটি ছিদ্র ধরা পড়ে। দীর্ঘ চার বছর চিকিৎসা চললেও আর্থিক সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ বছর চিকিৎসাবিহীন থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে তার জ্বর, সর্দি ও তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিলে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে টিউমার এবং হৃদয়ে আরও তিনটি ছিদ্র ধরা পড়ে। একই সঙ্গে তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়।

পারিবারিক অশান্তির জেরে ২০২৫ সালের শুরুতে রুহির মা তাকে নিয়ে বাবার বাড়ি ছেড়ে নানার বাড়িতে চলে আসেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চ মাসে রুহির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে। এরপর থেকে রুহির বাবার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

বর্তমানে রুহি প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করে, চিৎকার করে কাঁদে এবং নিজের দৈনন্দিন কাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হবে, প্রয়োজনে দেশের বাইরেও চিকিৎসা লাগতে পারে। এজন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন।

রুহির নানা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। নিজেরাই অসুস্থ, কাজ করতে পারি না। রুহির চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে হয়তো মেয়েটা বাঁচতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল আলী বলেন, “রুহি খুব অসহায়। তার চিকিৎসার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।”

সান্যালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “রুহি আমাদের স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে খুব মেধাবী ছিল। আমরা চাই সে সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরে আসুক।”

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মান্নান বাদশাও রুহির জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

ছোট্ট রুহির একটাই আকুতি—সে বাঁচতে চায়, আবার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ফিরতে চায়, সবার মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চায়।

রুহির চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার। যোগাযোগ ও সহায়তা পাঠানোর জন্য মোবাইল (বিকাশ): ০১৩১০-৩২২৮৮৮ (আমিরন বেগম)।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট রুহি, হৃদয়ে ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার—বাঁচতে চায় সে

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট রুহি, হৃদয়ে ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার—বাঁচতে চায় সে

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর নানার বাড়িতে আশ্রয়, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ১০-১২ লাখ টাকা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জন্মের পর থেকেই নানা জটিল রোগে ভুগছে ৯ বছর বয়সী শিশু রুকাইয়া সুলতানা রুহি। হৃদয়ে একাধিক ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার নিয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে সে। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

উপজেলার জাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের মো. রমজান আলী ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির বড় মেয়ে রুহি। তবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর বর্তমানে মায়ের সঙ্গে সান্যালপাড়া গ্রামে তার নানা-নানীর বাড়িতে বসবাস করছে। নানা আব্দুল মান্নান কিডনি রোগে এবং নানী আমিরন বেগম স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত—ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই রুহির হার্টবিট অস্বাভাবিক ছিল। মাত্র তিন মাস বয়সে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে হৃদয়ে একটি ছিদ্র ধরা পড়ে। দীর্ঘ চার বছর চিকিৎসা চললেও আর্থিক সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ বছর চিকিৎসাবিহীন থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে তার জ্বর, সর্দি ও তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিলে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে টিউমার এবং হৃদয়ে আরও তিনটি ছিদ্র ধরা পড়ে। একই সঙ্গে তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়।

পারিবারিক অশান্তির জেরে ২০২৫ সালের শুরুতে রুহির মা তাকে নিয়ে বাবার বাড়ি ছেড়ে নানার বাড়িতে চলে আসেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চ মাসে রুহির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে। এরপর থেকে রুহির বাবার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

বর্তমানে রুহি প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করে, চিৎকার করে কাঁদে এবং নিজের দৈনন্দিন কাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হবে, প্রয়োজনে দেশের বাইরেও চিকিৎসা লাগতে পারে। এজন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন।

রুহির নানা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। নিজেরাই অসুস্থ, কাজ করতে পারি না। রুহির চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে হয়তো মেয়েটা বাঁচতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল আলী বলেন, “রুহি খুব অসহায়। তার চিকিৎসার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।”

সান্যালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “রুহি আমাদের স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে খুব মেধাবী ছিল। আমরা চাই সে সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরে আসুক।”

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মান্নান বাদশাও রুহির জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

ছোট্ট রুহির একটাই আকুতি—সে বাঁচতে চায়, আবার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ফিরতে চায়, সবার মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চায়।

রুহির চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার। যোগাযোগ ও সহায়তা পাঠানোর জন্য মোবাইল (বিকাশ): ০১৩১০-৩২২৮৮৮ (আমিরন বেগম)।