ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামেকে হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু, ২৭ জনই ছিল টিকাবঞ্চিত রাবিতে অবিস্ফোরিত মর্টারশেল উদ্ধার, নিরাপদে নিষ্ক্রিয় নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা রামেক হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতা: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি রাজশাহী নার্সিং কলেজে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা রাজশাহীতে ট্রেনে কা/টা পড়ে নারীসহ দুজনের মৃ’ত্যু রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম বাগাতিপাড়ায় বাউয়েটে টেকসই নির্মাণ নিয়ে সেমিনার, ট্রাস প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ, ৩ হাজার মুরগির মৃত্যু রাজশাহীতে আঙুর চাষে সাফল্য, বছরে ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন উদ্যোক্তা সাগরের

রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম

বাজারে অস্থিরতা, ক্রেতাদের অভিযোগ—কৃত্রিম সংকটে নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী

রাজশাহী নগরীতে কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে ডিমসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

নগরীর ভদ্রা, সাগরপাড়া, সাহেববাজার, শালবাগান ও কোর্ট বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ৫ লিটারের বোতল প্রায় উধাও। কোথাও কোথাও ২ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

শালবাগানের খুচরা বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিলাররা কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন না। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে খোলা তেলের দিকে ঝুঁকছেন। ভদ্রা এলাকার ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, কোম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। অনেক বিক্রয় প্রতিনিধি বাজারে আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন। তার দাবি, দাম বাড়ার আশায় কিছু কোম্পানি বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

বোতলজাত তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৯০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি একটি কৃত্রিম সংকট, যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে বেশি লাভের চেষ্টা করছেন।

বাজার পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হাকিম বলেন, “প্রতি মাসেই বাজার খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করে ব্যাংক কর্মকর্তা অনিন্দ্য সরকার বলেন, “ভালো আয় করেও এখন বাজারে নিজেকে অসহায় মনে হয়।”

এদিকে আমিষের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৬০ টাকায় পৌঁছেছে। দেশি মুরগি ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০-১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের ডিমের দাম হালিতে ১০-১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সবজির বাজারেও রয়েছে উচ্চমূল্য। বেগুন ৭০-৮০ টাকা, সিম ১০০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং পটল ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু তুলনামূলক কম দামে ১৪-১৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, রসুন ১৪০-১৬০ টাকা এবং আদা ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ৩৬০-৩৮০ টাকা, পাঙাস ২০০-২৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা এবং কৈ মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং ৮০০-৯০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম

বাজারে অস্থিরতা, ক্রেতাদের অভিযোগ—কৃত্রিম সংকটে নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী

রাজশাহী নগরীতে কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে ডিমসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

নগরীর ভদ্রা, সাগরপাড়া, সাহেববাজার, শালবাগান ও কোর্ট বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ৫ লিটারের বোতল প্রায় উধাও। কোথাও কোথাও ২ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

শালবাগানের খুচরা বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিলাররা কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন না। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে খোলা তেলের দিকে ঝুঁকছেন। ভদ্রা এলাকার ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, কোম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। অনেক বিক্রয় প্রতিনিধি বাজারে আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন। তার দাবি, দাম বাড়ার আশায় কিছু কোম্পানি বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

বোতলজাত তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৯০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি একটি কৃত্রিম সংকট, যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে বেশি লাভের চেষ্টা করছেন।

বাজার পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হাকিম বলেন, “প্রতি মাসেই বাজার খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করে ব্যাংক কর্মকর্তা অনিন্দ্য সরকার বলেন, “ভালো আয় করেও এখন বাজারে নিজেকে অসহায় মনে হয়।”

এদিকে আমিষের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩৬০ টাকায় পৌঁছেছে। দেশি মুরগি ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০-১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের ডিমের দাম হালিতে ১০-১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সবজির বাজারেও রয়েছে উচ্চমূল্য। বেগুন ৭০-৮০ টাকা, সিম ১০০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং পটল ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু তুলনামূলক কম দামে ১৪-১৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, রসুন ১৪০-১৬০ টাকা এবং আদা ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ৩৬০-৩৮০ টাকা, পাঙাস ২০০-২৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা এবং কৈ মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং ৮০০-৯০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।