ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামেকে হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু, ২৭ জনই ছিল টিকাবঞ্চিত রাবিতে অবিস্ফোরিত মর্টারশেল উদ্ধার, নিরাপদে নিষ্ক্রিয় নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা রামেক হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতা: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি রাজশাহী নার্সিং কলেজে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা রাজশাহীতে ট্রেনে কা/টা পড়ে নারীসহ দুজনের মৃ’ত্যু রাজশাহীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে খোলা তেল ও ডিমের দাম বাগাতিপাড়ায় বাউয়েটে টেকসই নির্মাণ নিয়ে সেমিনার, ট্রাস প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ, ৩ হাজার মুরগির মৃত্যু রাজশাহীতে আঙুর চাষে সাফল্য, বছরে ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন উদ্যোক্তা সাগরের

দৌলতপুরে কুরআন অ’বমান’নার অভিযোগ দরবার শরিফে হা’ম’লা-অ/গ্নি/সং/যো/গ, মা/রধ/রে কথিত পীর নি’হ’ত

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দৌলতপুরে কুরআন অ’বমান’নার অভিযোগ দরবার শরিফে হা’ম’লা-অ/গ্নি/সং/যো/গ, মা/রধ/রে কথিত পীর নি’হ’ত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কুরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতার মারধরে শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নামে কথিত পীর নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় “কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে” এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীম রেজাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ ছিল। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে তাকে কুরআন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, শামীম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে। তিনি ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন।

এর আগে ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৌলতপুরে কুরআন অ’বমান’নার অভিযোগ দরবার শরিফে হা’ম’লা-অ/গ্নি/সং/যো/গ, মা/রধ/রে কথিত পীর নি’হ’ত

আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দৌলতপুরে কুরআন অ’বমান’নার অভিযোগ দরবার শরিফে হা’ম’লা-অ/গ্নি/সং/যো/গ, মা/রধ/রে কথিত পীর নি’হ’ত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কুরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতার মারধরে শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নামে কথিত পীর নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় “কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে” এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীম রেজাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ ছিল। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে তাকে কুরআন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, শামীম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে। তিনি ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন।

এর আগে ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।