ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু গুরুতর আহত রুহির চিকিৎসায় ইউএনও কার্যালয়ের সহায়তা, এগিয়ে আসার আহ্বান পঞ্চগড়ে ট্রাকচাপায় আইনজীবীর মৃত্যু পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি বিশ্বকাপে না যাওয়া ‘মারাত্মক ভুল’-সাকিব আল হাসান বাউয়েটে অর্থ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, সংশোধিত বাজেট অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সিংড়ায় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১২ সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত তিন দশকেও জলাবদ্ধতা কাটেনি চট্টগ্রামে, সংসদে দুঃখ প্রকাশ ও সমাধানের আশ্বাস ১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা স্থগিত, নতুন করে যাচাই-বাছাই

রাণীশংকৈলে পিআইও ইস্যুতে ইউএনওর ‘চুপ থাকবো’ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলে পিআইও ইস্যুতে ইউএনওর ‘চুপ থাকবো’ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল

ঘটনার আগেই কথোপকথন, পরেই মারপিট—মামলার সাক্ষী সেই ইউএনও

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারধরের ঘটনার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগমের সঙ্গে এক রাজনৈতিক নেতার ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে ‘অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে চুপ থাকবো’—এমন মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, মারধরের ঘটনার আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ইউএনও খাদিজা বেগমকে ফোন করে পিআইও’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ফোনালাপে ইউএনও বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে এক পর্যায়ে মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি চুপ থাকবেন।” জবাবে ইউএনওকে ‘চুপ থাকবো’ বলে মুচকি হাসতে শোনা যায়—এমন দাবিতে অডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গত ৭ এপ্রিল রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পিআইও নুরনবী সরকার বাদী হয়ে মামুনুর রশিদ মামুন, সোহরাব আলী, জাফর আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওতে মামুনুর রশিদ মামুন পিআইও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনে ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করার কথাও বলেন। উত্তরে ইউএনও তাকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানান এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অডিও প্রসঙ্গে মামুনুর রশিদ মামুন দাবি করেন, “আমি ইউএনও’র সঙ্গে যে কথোপকথন করেছি, সেটাই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। এতে পিআইও’র আচরণ সম্পর্কে বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।”

অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পিআইওকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভাইরাল অডিওটি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলে পিআইও ইস্যুতে ইউএনওর ‘চুপ থাকবো’ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

রাণীশংকৈলে পিআইও ইস্যুতে ইউএনওর ‘চুপ থাকবো’ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল

ঘটনার আগেই কথোপকথন, পরেই মারপিট—মামলার সাক্ষী সেই ইউএনও

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারধরের ঘটনার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগমের সঙ্গে এক রাজনৈতিক নেতার ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে ‘অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে চুপ থাকবো’—এমন মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, মারধরের ঘটনার আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ইউএনও খাদিজা বেগমকে ফোন করে পিআইও’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ফোনালাপে ইউএনও বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে এক পর্যায়ে মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি চুপ থাকবেন।” জবাবে ইউএনওকে ‘চুপ থাকবো’ বলে মুচকি হাসতে শোনা যায়—এমন দাবিতে অডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গত ৭ এপ্রিল রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পিআইও নুরনবী সরকার বাদী হয়ে মামুনুর রশিদ মামুন, সোহরাব আলী, জাফর আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওতে মামুনুর রশিদ মামুন পিআইও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনে ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করার কথাও বলেন। উত্তরে ইউএনও তাকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানান এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অডিও প্রসঙ্গে মামুনুর রশিদ মামুন দাবি করেন, “আমি ইউএনও’র সঙ্গে যে কথোপকথন করেছি, সেটাই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। এতে পিআইও’র আচরণ সম্পর্কে বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।”

অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পিআইওকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভাইরাল অডিওটি সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।