রাণীশংকৈলে কাঁচা রাস্তার কারণে সীমান্ত পাহারায় ভোগান্তিতে বিজিবি
- আপডেট সময় : ০৭:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে কাঁচা রাস্তার কারণে সীমান্ত পাহারায় ভোগান্তিতে বিজিবি
বর্ষায় কাদায় অচল টহলপথ, ব্যাহত সীমান্ত নজরদারি; দ্রুত অবশিষ্ট রাস্তা পাকাকরণের দাবি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কোচল বিওপি এলাকায় কাঁচা রাস্তার কারণে সীমান্ত পাহারায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বিজিবি সদস্যরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই কাদামাটিতে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে টহল কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোচল বিওপি থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পৌঁছানোর একমাত্র ভরসা এই কাঁচা রাস্তা। শুকনো মৌসুমে কোনোমতে যাতায়াত সম্ভব হলেও বৃষ্টিপাত শুরু হলেই রাস্তাগুলো কাদায় পরিণত হয়। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে টহল দিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন বিজিবি সদস্যরা।
এদিকে, সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কোচল কমিউনিটি সেন্টার, কোচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিসমত সিন্দাগড় উচ্চ বিদ্যালয়, হরিবাসর, মসজিদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করলেও বেহাল রাস্তার কারণে তাদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় রায় জানান, রাস্তার প্রথম অংশে ১ হাজার ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের কাজ গত আগস্ট মাসে সম্পন্ন হয়েছে। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হয়েছে, দুর্ঘটনা কমেছে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বেড়েছে। তবে অবশিষ্ট অংশটুকু পাকা করা হলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শাহাজান আলী বলেন, “সম্পন্ন হওয়া অংশে এখন মহেন্দ্র, ট্রলি ও ভ্যানগাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন সহজে চলাচল করছে। অবশিষ্ট অংশ পাকা হলে কোচল বিওপি পর্যন্ত যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে লেহেম্বা ইউনিয়নের পকম্বা গ্রামে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অফ লেহেম্বা ইউপি (গোগর হাট)–কোচল হাট বিওপি ভায়া পকম্বা রোড’ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৯৫০ মিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, বাকি অংশের কাজ সম্পন্নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জনদুর্ভোগ কমাতে অবশিষ্ট অংশের রাস্তা দ্রুত পাকাকরণ এখন সময়ের দাবি।




















