রাজশাহীতে প্রথমবার ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার, পাঁচ নারী পেলেন বিভাগীয় সেরা সম্মাননা
- আপডেট সময় : ০১:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৭২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে প্রথমবার ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার, পাঁচ নারী পেলেন বিভাগীয় সেরা সম্মাননা
নারীর অগ্রযাত্রা ও সক্ষমতাকে স্বীকৃতি; ৪০ জনের মধ্য থেকে চূড়ান্ত পাঁচজনকে সম্মাননা
সমাজে নানা প্রতিকূলতা, বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে যারা নিজেদের অদম্য সাহস ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দিতেই রাজশাহী বিভাগে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ নারী উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ৪০ জন নারীকে ‘অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী ৪০ জনের মধ্য থেকে ১০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে বিভাগীয় সেরা ‘অদম্য নারী’ ঘোষণা করা হয়।
বিজয়ীরা হলেন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে শেরপুর উপজেলার রিজু তামান্না; সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান ক্যাটাগরিতে শিবগঞ্জ উপজেলার সুমাইয়া ইসলাম; অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে পাবনা সদর উপজেলার মোছা. লতা খাতুন; সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে মোহনপুর উপজেলার রাশেদা বেগম; এবং নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী ক্যাটাগরিতে চারঘাট উপজেলার রাজিয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, “নারীরা আজ শুধু পরিবার নয়, রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা এগিয়ে চলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে পুরো সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। অদম্য নারীদের এই সম্মাননা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণকারী ৪০ জন নারীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে ডকুমেন্টারি ও প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
‘শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে মনোনীত রিজু তামান্না বলেন, নারীরা সুযোগ পেলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। অন্যদিকে ‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান’ ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত হওয়া সুমাইয়া ইসলাম বলেন, “নারীরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সমাজের উন্নয়নে কিছু করে যেতে চাই—এই বিশ্বাস থেকেই কাজ করে যাচ্ছি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার ও উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, অদম্য নারীদের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের সম্মান নয়; বরং সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্ব বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।























