ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নওগাঁয় সরিষার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা লালমনিরহাটে শি’শু ধ/র্ষ/ণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, লাখ টাকা জরিমানা মুন্সীগঞ্জে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার শাকিল হ/ত্যা মামলায় এমপির ছেলে মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড রাণীনগরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর পরিষ্কারের নির্দেশ বালিয়াডাঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, বন্ধু হাসপাতালে পঞ্চগড়ে ১৭ দরিদ্র নারী পেলেন দুটি করে মা ছাগল পঞ্চগড় থেকে দেখা মিলছে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতে পাচারের আগে ৮ বস্তা সার উদ্ধার

রাণীশংকৈলের রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটন, মিলবে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪০৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলের রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটন, মিলবে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের রাজবাড়িটি অবহেলায় জরাজীর্ণ; পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি যথাযথ সংস্কার করা হলে এটি হতে পারে জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র—এমনটাই মনে করছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা। সংস্কারের মাধ্যমে সরকার যেমন পেতে পারে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, তেমনি সৃষ্টি হতে পারে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান।

প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত রাজা টংকনাথের রাজবাড়িটি রাণীশংকৈল পৌর শহর থেকে মাত্র ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার পূর্বে বাচোর ইউনিয়নে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত। উপজেলা শহর থেকে ভ্যান বা ব্যাটারি চালিত অটোতে মাত্র ১০ টাকায় সহজেই যাওয়া যায় এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত রাজবাড়িটির নির্মাণশৈলীতে রয়েছে ভিক্টোরিয়ান অলঙ্করণ ও অনুপম কারুকার্য। একসময় মার্বেল পাথরের মেঝে, বিশাল সিংহদরজা, অন্ধরমহল, কাছারিবাড়ি ও দীঘি নিয়ে ছিল রাজবাড়িটির রাজকীয় জৌলুস।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথের আমলে রাজবাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজা টংকনাথ চৌধুরী ব্রিটিশ সরকারের আনুকূল্য অর্জন করে ‘চৌধুরী’ ও ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন। তাঁর স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামানুসারেই মালদুয়ার স্টেটের নামকরণ হয় রাণীশংকৈল। দেশভাগের আগে রাজা টংকনাথ জমিদারি ছেড়ে ভারতে চলে গেলে এই জমিদারি পরম্পরার অবসান ঘটে।

রাজবাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত জয়কালী মন্দিরটিও একটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সংস্কার করে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় ২০১৯ সালে রাজবাড়িটি গেজেটভুক্ত হয়। পরে রাণীশংকৈলের কৃতি সন্তান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান শুভ হাইকোর্টে রিট করলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে আসে স্থাপনাটি। ২০২৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম রাজবাড়ি পরিদর্শন করে সংস্কারের আশ্বাস দেন। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কিছু সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রশিদ, বাবলা হোসেন ও মোনালিসা বলেন, রাজবাড়িটি পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার করা হলে এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। এতে সরকার বছরে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে এবং স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, “রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি শুধু রাণীশংকৈলের নয়, এটি পুরো জেলার ইতিহাস বহন করে। দ্রুত সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।”

এলাকাবাসীর দাবি, আংশিক সংস্কার নয়—রাজবাড়িটিকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

January 25, 2026
রাণীশংকৈলের রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটন, মিলবে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলের রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটন, মিলবে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাণীশংকৈলের রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটন, মিলবে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের রাজবাড়িটি অবহেলায় জরাজীর্ণ; পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি যথাযথ সংস্কার করা হলে এটি হতে পারে জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র—এমনটাই মনে করছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা। সংস্কারের মাধ্যমে সরকার যেমন পেতে পারে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, তেমনি সৃষ্টি হতে পারে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান।

প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত রাজা টংকনাথের রাজবাড়িটি রাণীশংকৈল পৌর শহর থেকে মাত্র ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার পূর্বে বাচোর ইউনিয়নে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত। উপজেলা শহর থেকে ভ্যান বা ব্যাটারি চালিত অটোতে মাত্র ১০ টাকায় সহজেই যাওয়া যায় এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত রাজবাড়িটির নির্মাণশৈলীতে রয়েছে ভিক্টোরিয়ান অলঙ্করণ ও অনুপম কারুকার্য। একসময় মার্বেল পাথরের মেঝে, বিশাল সিংহদরজা, অন্ধরমহল, কাছারিবাড়ি ও দীঘি নিয়ে ছিল রাজবাড়িটির রাজকীয় জৌলুস।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথের আমলে রাজবাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজা টংকনাথ চৌধুরী ব্রিটিশ সরকারের আনুকূল্য অর্জন করে ‘চৌধুরী’ ও ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন। তাঁর স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামানুসারেই মালদুয়ার স্টেটের নামকরণ হয় রাণীশংকৈল। দেশভাগের আগে রাজা টংকনাথ জমিদারি ছেড়ে ভারতে চলে গেলে এই জমিদারি পরম্পরার অবসান ঘটে।

রাজবাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত জয়কালী মন্দিরটিও একটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সংস্কার করে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় ২০১৯ সালে রাজবাড়িটি গেজেটভুক্ত হয়। পরে রাণীশংকৈলের কৃতি সন্তান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান শুভ হাইকোর্টে রিট করলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে আসে স্থাপনাটি। ২০২৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম রাজবাড়ি পরিদর্শন করে সংস্কারের আশ্বাস দেন। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কিছু সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রশিদ, বাবলা হোসেন ও মোনালিসা বলেন, রাজবাড়িটি পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার করা হলে এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। এতে সরকার বছরে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে এবং স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, “রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি শুধু রাণীশংকৈলের নয়, এটি পুরো জেলার ইতিহাস বহন করে। দ্রুত সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।”

এলাকাবাসীর দাবি, আংশিক সংস্কার নয়—রাজবাড়িটিকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

January 25, 2026
রাণীশংকৈলের রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি সংস্কার হলে বাড়বে পর্যটন, মিলবে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান
বিস্তারিত কমেন্টে...www.channelanews.com
Advertisement